রাজশাহীতে পুকুরের কাদায় পুঁতে রাখা শিশুর লাশ উদ্ধার, ধারণা ধর্ষণের পর হত্যা

রাজশাহী জেলার মানচিত্র
রাজশাহী জেলার মানচিত্র

১০ বছর বয়সী মেয়েশিশুটি বাড়ির পাশের গাছ থেকে করমচা পাড়ছিল। এ সময় স্থানীয় একটি হোটেলের কর্মচারী তাকে ডেকে নিয়ে যান। গত শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকের ঘটনা এটি। এর পর থেকে শিশুটির আর খোঁজ নেই।

প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর আজ সোমবার সকাল ছয়টার দিকে এলাকার একটি পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার কানের সোনার রিং ছিল না। পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী নগরের শাহ মখদুম থানাধীন এলাকায়। পুলিশ আজ ভোর চারটার দিকে ওই হোটেল কর্মচারীকে নাটোর থেকে আটক করেছে। ৩০ বছর বয়সী ওই হোটেল কর্মচারীর বাড়ি রাজশাহী নগরের বড় বনগ্রাম এলাকায়।

নগরের শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, নাটোর থেকে ওই হোটেল কর্মচারীকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শিশুটির বাবা পেশায় ভ্যানচালক। তিনি নগরের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

শিশুটির মামা প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির দাদি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়া পদে চাকরি করেন। সেই সুবাদে শিশুটি প্রায়ই দাদির কাছে যেত। হোটেল থেকে নাশতা নিয়ে আসত। এভাবেই ওই হোটেল কর্মচারীকে চিনত সে। শনিবার বিকেলে শিশুটি যখন করমচা পাড়ছিল, তখন ওই হোটেল কর্মচারী গিয়ে তাকে ঈদের সালামি দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান। সন্ধ্যার পর থেকেই ভাগনিকে না পেয়ে তাঁরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাতেই পুলিশকে জানানো হয়। কিন্তু পুলিশ প্রথম দিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

শিশুটির মামা বলেন, তাঁর ভাগনির কানে সোনার রিং ছিল। তাঁরা এক স্বর্ণকারের দোকান থেকে গতকাল রোববার সেই রিং উদ্ধার করে পুলিশকে দিয়েছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ১ হাজার ৫০০ টাকায় তা ওই স্বর্ণকারের কাছে বিক্রি করেছিলেন। আজ ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে নগরের একটি পুকুর থেকে তাঁর ভাগনির লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি নিজেই পুকুরে নেমেছিলেন। লাশ কাদার মধ্যে পুঁতে রাখা ছিল। লাশটি শুধু ওড়না দিয়ে জড়ানো ছিল। শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তাঁর।