স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন সামিউল ইসলাম। তাঁদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন বৃদ্ধ শ্বশুর–শাশুড়ি। এই সময় বাড়ি থেকে চুরি হয় স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মালামাল। এ ঘটনায় করা মামলায় শেষ পর্যন্ত হাতকড়া পড়ল জামাতা সামিউলের হাতে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পাটাইকোনা গ্রামে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সামিউল ইসলাম (৪০)। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার জোনাকী এলাকায়। সামিউল শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন।
উদ্ধারের পর পুলিশ চুরি হওয়া স্বর্ণের গয়নাগুলো আমাকে দিয়ে দিছে। এই চুরির ঘটনার সঙ্গে আমার জামাতা জড়িত, তা ভাবতেও পারি নাই। রিমান্ডে সে পুলিশের কাছে সব স্বীকার করেছে।আকবর আলী, গ্রেপ্তার সামিউল ইসলামের শ্বশুর
ঘিওর থানার পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট উপজেলার পাটাইকোনা গ্রামের আকবর আলী খানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আকবর আলী খান ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছিলেন। পরে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা, ট্রাংক ও লকারের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ওই কক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রীর স্বর্ণালংকার, ব্যাংকের চেক বই ও এটিএম কার্ড পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়িতেও ছিলেন না সামিউল।
উপায় না পেয়ে ৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের ঘিওর থানায় মামলা করেন আকবর আলী। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে তিনটি মালা, পাঁচ জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, একটি সিতাহার, দুটি আংটি ও একটি ব্রেসলেট। সবগুলোর ওজন প্রায় ছয় ভরি।
মামলাটির তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সামিউলের অবস্থান শনাক্ত করে ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ রাজশাহীর বোয়ালিয়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে সামিউলকে মানিকগঞ্জের জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রোববার রাজশাহীর বোয়ালিয়ায় একটি ব্যাংকের লকার থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
আজ সোমবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ঘিওর থানার ওসি মুহাম্মদ কবীর। তিনি বলেন, সামিউলকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। রিমান্ড শেষে তাঁকে আজ আবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী আকবর আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ উদ্ধারের পর পুলিশ চুরি হওয়া স্বর্ণের গয়নাগুলো আমাকে দিয়ে দিছে। এই চুরির ঘটনার সঙ্গে আমার জামাতা জড়িত, তা ভাবতেও পারি নাই। রিমান্ডে সে পুলিশের কাছে সব স্বীকার করেছে।’