
‘চার মাস আগে ফোনটা হারিয়েছিলাম। এরপর থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করি। তবে ফোনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, এখন ফিরে পাওয়ার খুশি যে কী, তা বলে বোঝাতে পারব না।’
কথাগুলো বলছিলেন বাসিঅং মারমা (৪০)। তিনি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ৯৬ নম্বর কলমপতি ইউনিয়নের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হারানো মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন তিনি। চার মাস আগে বাজার করতে গিয়ে তিনি মুঠোফোনটি হারিয়েছিলেন। পরে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এটি উদ্ধার করেছে।
বাসিঅং মারমার মতো হারানো মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকার বাসিন্দা রিনা চাকমাও। চলতি বছর জুলাই মাসে বাড়ি থেকে তাঁর মুঠোফোনটি চুরি হয়েছিল। তিনি হারানো মুঠোফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
রাঙামাটিতে বাসিঅং ও রিনা চাকমার মতো আরও ৪৯ জন হারানো মুঠোফোন ফেরত পেয়েছেন। গতকাল দুপুরে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে মুঠোফোন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব।
পুলিশ জানায়, জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন উদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, ‘জনসাধারণের নিরাপত্তা ও সেবা প্রদানই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম মাহমুদ প্রমুখ।