মাদারীপুরে বিস্ফোরণে একটি ঘরের টিনের বেড়া উড়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায়
মাদারীপুরে বিস্ফোরণে একটি ঘরের টিনের বেড়া উড়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায়

মাদারীপুরে বিস্ফোরণে উড়ে গেল ঘরের টিনের বেড়া

মাদারীপুরে বিস্ফোরণে একটি ঘরের টিনের বেড়া উড়ে গেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে ঘরে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে ওই এলাকার আল-আকসা আকন বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার থাকেন। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন। মসজিদের পাশে ইমামের থাকার ঘর। ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ তিনজনের কাছে ঘরের চাবি রাখা ছিল। আজ বিকেলে ওই ঘর থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ঘরের টিনের বেড়া উড়ে যায়। শব্দ শুনে মসজিদের সামনে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়া ১৫ আগস্ট মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসার পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়।

গত ১৭ দিনের ব্যবধানে তিনটি স্থানে বিস্ফোরণে ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও পরিত্যক্ত বাসাবাড়িতে এ ধরনের বিস্ফোরণের সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে কি না তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মাদারীপুরে ঘরে ঘরে ককটেল বোমা তৈরির একটি প্রচলন রয়েছে। এখানে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, সামাজিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে তারা এ ধরনের বোমাজাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করে। সম্প্রতি মাদারীপুরে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের প্রতিটি পৃথক পৃথক ঘটনাই বিরোধ বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হতে পারে, যা বলা যায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অন্য কোনো বিষয় এখানে নেই।’