গাজীপুর সিটির ওয়ার্ড পরিক্রমা (ওয়ার্ড নম্বর ৪৫)

সুপেয় পানির তীব্র সংকট

প্রায় তিন বছর ধরে চলছে পানির সংকট। এ ছাড়া ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন, এমনকি কেনাবেচা চলে।

ওয়ার্ডের সর্বত্র পানির সমস্যা। তাই বাসিন্দারা পানির সংকট কাটাতে নিজ উদ্যোগে বসিয়েছেন পানির সাবমার্সিবল কল। ওয়ার্ডটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরলেই চোখে পড়ে সাবমার্সিবল লাইনের ছড়াছড়ি। গতকাল ওয়ার্ডের মিরাশপাড়া এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে গত ১০ বছরেও তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নাগরিক সমস্যাগুলোরও সমাধান হয়নি। ওয়ার্ডটির প্রধান সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। প্রায় তিন বছর ধরে ওয়ার্ডের অনেক এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশন থেকে সরবরাহ করা পানি ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এ ছাড়া ওয়ার্ডটিতে মাদক সমস্যাও বেড়েছে ভাবনায় ফেলেছে বাসিন্দাদের।

চার-পাঁচ মাস ধরে পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাসিন্দারা ঠিকমতো অজু, গোসল, খাওয়া বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করতে পারছেন না। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা পূর্ব আরিচপুরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির অভাব সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ ধারদেনা করে সাবমার্সিল পাম্প বসাইছে। আমরা তাদের কাছ থেইক্যা পানি ভিক্ষা নিয়া চলি। তারা কোনো কারণে পানি দিতে না চাইলে বেকায়দায় পড়তে হয়। তহন হাহাকার লাইগ্যা যায়।’

পূর্ব আরিচপুর, বউবাজার, টঙ্গী রেল কলোনি, মিরাশপাড়ার একাংশ, সাতরংয়ের একাংশ এবং নদীবন্দরের একাংশ নিয়ে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ওয়ার্ডটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার ৬৬২ জন। এর মাঝে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ২৩১ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৩১। ভোটকেন্দ্র ১৬টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ১০৩টি। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শাহ আলম (রিপন)।

ওয়ার্ডটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সবাই পানিসংকটকেই বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন। এর বাইরে বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, খেলার মাঠ না থাকায় বিনোদনের অভাবসহ রয়েছে কবরস্থান ও গণশৌচাগারের সমস্যা। তবে মাদকের ছড়াছড়ি প্রচুর। বাসিন্দারা জানান, নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক সমস্যা। ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন বা কেনাবেচা হয়। এর ফলে উঠতি বয়সের তরুণ বা শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পূর্ব আরিচপুর থেকে একই সড়ক ধরে কিছুটা সামনে এগোলে তুরাগ নদ। নদের পার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি। সেখানকার বাসিন্দা নুরেসা বেগমের আক্ষেপ মশার উপদ্রব নিয়ে। গত ছয় মাসেও ওই এলাকায় মশার ওষুধ দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর ঘরে-বাইরে কোথাও বসা যায় না। মশার যন্ত্রণায় মাঝেমধ্যে কান্দন আহে। কয়েল জ্বালাইয়্যাও রক্ষা পাওন যায় না। নিয়মিত ট্যাক্স দিই। হেরপরেও মশার ওষুধ দেয় না।’

সম্প্রতি তৃতীয় মেয়াদে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী ২৫ মে। প্রতিটি ওয়ার্ডে এরই মধ্যে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বর্তমান কাউন্সিলর শাহ আলম এবারও প্রার্থী হচ্ছেন। এর বাইরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শোনা যাচ্ছে গাজী সালা উদ্দিন ও মো.নাদিরুজ্জামানের নাম।

ভোটাররা বলছেন, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা সরব হয়ে ওঠেন। ভোট চাইতে তাদের দ্বারে দ্বারে যান। দেন নানান প্রতিশ্রুতি। কিন্তু নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে সেসবের কোনো খোঁজ থাকে না। তাঁদের মতে, গত নির্বাচনে (২০১৮ সাল) বর্তমান কাউন্সিলর শাহ আলম মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেসবের কিছুই হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদকের উৎপাত বেড়েছে।

ওয়ার্ডের নানা সমস্যার বিষয়ে জানতে কাউন্সিলর শাহ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, ব্যস্ত আছেন জানিয়ে সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।