কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার বেশি এমওপি সার খুলনায় মজুত রয়েছে। ওই সার পরিবহন করে যশোর গুদামে না আনায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

আমন ধান আবাদের ভরা মৌসুম চলছে। রোপণ করা হচ্ছে আমন ধানের চারা। কিন্তু যশোরের কৃষকেরা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) পাচ্ছেন না। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে যে সামান্য পরিমাণ এমওপি সার মিলছে, তা কৃষক কিনছেন সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়ে। এমওপি সার কিনতে গিয়ে ঠকছেন কৃষক।
বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার বেশি এমওপি সার খুলনায় মজুত রয়েছে। ওই সার পরিবহন করে যশোর গুদামে না আনায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় এমওপি সারের কোনো সংকট নেই।
জুলাইয়ের শুরু থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত আমন ধানের মৌসুম। আমন ধানের চারা রোপণের সময়কাল মধ্য জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চারা রোপণের সময়কালে অ-ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হয়। অ-ইউরিয়া সারের মধ্যে একটি হচ্ছে এমওপি।
মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বিশ্বাস বলেন, ‘এবার ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান করছি। সব জমিতে ধান লাগানো হয়ে গেছে। অনেক ঘুরে আমি ২৪ টাকা কেজি দরে ১২০ কেজি পটাশ সার (এমওপি) কিনে খেতে দিয়েছি। আরও কিছু পটাশ কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না।’
১২০ কেজি পটাশ সার (এমওপি) কিনে খেতে দিয়েছি। আরও কিছু পটাশ কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না।তারেক রাফি ভূঁইয়া, মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা গ্রামের কৃষক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এবার আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমিতে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জুলাই মাসের জন্য ২ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসের জন্য ১ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সার বিএডিসির আমদানি করা। কৃষক পর্যায়ে সরকারের নির্ধারিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজির) এমওপি সারের দাম ৭৫০ টাকা (১৫ টাকা প্রতি কেজি)। যশোরে বিসিআইসির ১৪২ জন এবং বিএডিসির ১৬০ জন ডিলার রয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক বলেন,‘কৃষকের কাছে গত মাসের বরাদ্দের কিছু এমওপি সার ছিল। তা ছাড়া কৃষক প্রথমে একটু কম এমওপি সার খেতে দেন। পরে আরও কিছু সার দেন। এ মুহূর্তে চলার মতো সার আমাদের আছে। জেলায় এমওপি সারের কোনো সংকট নেই।’
বিএডিসি দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার আমদানি করে জাহাজে করে দেশে আনে। এরপর চুক্তিবদ্ধ পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে ছোট জাহাজে করে খুলনায় এবং যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় আনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পর এ দুই জায়গা থেকে ৩৫টি জেলার গুদামে সার পরিবহন করেন ঠিকাদারেরা। যশোর গুদামে সার পরিবহনের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পোটন ট্রেডার্স এবং কুষ্টিয়া ট্রেডিং এজেন্সি।
যশোরে ৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ৫টি গুদাম রয়েছে। গত জুলাই মাসে ২ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন এমওপি সারের মধ্যে ১ হাজার ৮৯৫ মেট্রিক টন এবং চলতি মাসের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টনের মধ্যে ৪৯২ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন এমওপি সার গুদামে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গুদামে ৫০ মেট্রিক টন এমওপি সার মজুত ছিল।
বিএডিসি যশোর কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক (সার) মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘খুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। কিন্তু পরিবহন ঠিকাদারেরা টিএসপি ও ডিএপি সার পৌঁছে দিলেও প্রতিদিন অল্প অল্প করে এমওপি সার গুদামে পৌঁছে দিচ্ছেন। কয়েক দিনের মধ্যে সব সার গুদামে পৌঁছে যাবে।’
পোটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) চেয়ারম্যান কামরুল আশরাফ খান পোটন বলেন, ‘ক্রাইসিস (সংকট) থাকায় ইউরিয়া সার পরিবহন করতে গিয়ে এমওপি সার পরিবহনে দেরি হয়েছে। আমরা এমওপি সার পরিবহন শুরু করেছি। কয়েক দিনের দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’