এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ। সোমবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ। সোমবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে

অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ

‘তোমার ফলাফল, তোমার গল্পের শেষ নয়’

জীবনের পথে সব সময় সাফল্য, আনন্দ ও স্বস্তি থাকে না। প্রতিটা মানুষের ক্ষেত্রেই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্যর্থতা আসে। অনেকেই সেই পরিস্থিতিকে জীবনের শেষ বলে মনে করে। আবার অনেকেই সেই ব্যর্থতা বা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে শুরু করে। ব্যর্থতা একজন মানুষকে শেখায় কোথায় ভুল হয়েছে, কোন পথে এগোনো উচিত নয় এবং কীভাবে নিজের প্রস্তুতি আরও ভালো করা যায়। দক্ষতা, যোগ্যতা ও অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য আসবেই।

নওগাঁয় এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।

একবার হেরে যাওয়া বা ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনের শেষ নয়। এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে কোথায় ভুল ছিল, ভবিষ্যতে কোন পথে এগোনো উচিত এবং কীভাবে নিজের প্রস্তুতি আরও ভালো করা যায়। দক্ষতা, যোগ্যতা ও অধ্যবসায় থাকলে জীবনে সাফল্য আসবেই। সময়ের অপচয় করা যাবে না।
সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক, নওগাঁ

শিক্ষার্থীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অনুপ্রেরণা দিতে আজ সোমবার বেলা ১১টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশের স্লোগান ছিল, ‘তোমার ফলাফল, তোমার গল্পের শেষ নয়’। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন মনির আলী আকন্দ, নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মাহমুদ, পোরশার ইউএনও রাকিবুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত সমাবেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

নিজের ব্যর্থতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভীষণ ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হব। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় অঙ্কে খারাপ ফলাফল অর্জনের কারণে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদনই করতে পারিনি। এজন্য ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়েও অন্য কিছু পড়ে জীবনে সফল হওয়া সম্ভব। তাঁদের কথা শুনে সাহস পেয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করে প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েই প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পেয়েছি। আমি যদি ব্যর্থ হয়ে ভেঙে পড়তাম তাহলে আজকে এই জায়গায় আসতে পারতাম না। নতুন করে শুরু করেছিলাম বলেই আজকে এখানে আসতে পেরেছি।’

কেউ এসএসসিতে ‘এ’ প্লাস পেল মানেই সে সফল, কিংবা কেউ ফেল করল মানেই সে ব্যর্থ তা কিন্তু নয়। একটি ধাপে ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেউ জীবনের পরের ধাপগুলোতে সফল হতে পারে। আবার কেউ একটি ধাপে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর পরের ধাপগুলোতে চরমভাবে ব্যর্থ হতে পারে। সফলতার কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই।
মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নওগাঁ

এসএসসি পরীক্ষাকে জীবনের একটা ধাপ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, একবার হেরে যাওয়া বা ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনের শেষ নয়। এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে কোথায় ভুল ছিল, ভবিষ্যতে কোন পথে এগোনো উচিত এবং কীভাবে নিজের প্রস্তুতি আরও ভালো করা যায়। দক্ষতা, যোগ্যতা ও অধ্যবসায় থাকলে জীবনে সাফল্য আসবেই। সময়ের অপচয় করা যাবে না।

জীবন মানেই সিঁড়ির পর সিঁড়ি বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে তিনি বলেন, কেউ এসএসসিতে ‘এ’ প্লাস পেল মানেই সে সফল, কিংবা কেউ ফেল করল মানেই সে ব্যর্থ তা কিন্তু নয়। একটি ধাপে ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেউ জীবনের পরের ধাপগুলোতে সফল হতে পারে। আবার কেউ একটি ধাপে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর পরের ধাপগুলোতে চরমভাবে ব্যর্থ হতে পারে। সফলতার কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল অর্জন করেও জগৎশ্রেষ্ঠ সাফল্য পেয়েছেন এমন উদাহরণ পৃথিবীতে ভূরি ভূরি আছে। স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই।

অনুষ্ঠানে আসা সানজিদা আখতার নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, সে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। তার প্রত্যাশা ছিল জিপিএ-৫ পাবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পায়নি। ফলাফল খারাপ হওয়ার জন্য পরিবারের লোকজন অনেক কথা শুনিয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘আমার মন ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু আজকে এখানে এসে স্যারদের কথা শুনে অনুপ্রেরণা পেলাম। অতীতে আমি যেসব ভুল করেছি, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে চাই।’