
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর গ্রামের কাঞ্চনেশ্বর গ্রাম। গ্রামের নামে ঐশ্বর্যের বাহার থাকলেও অদম্য মেধাবী স্মৃতি বালার ঘরে নিত্য অভাব। এর মধ্যেও সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার কথা হয় স্মৃতি বালা ও তার মা শেফালী রানী সরকারের সঙ্গে। কাঞ্চনেশ্বর গ্রামে সরকারি খাসজমিতে তাদের বসবাস। বাবা বিশ্বদেব সরকার আর মা শেফালী রানীর সংসারে স্মৃতি বালারা এক বোন, এক ভাই। স্বাচ্ছন্দ্যেই চলছিল তাদের সংসার। শেফালী রানী বলেন, বছর কয়েক আগে কাজের জন্য বাজারে যান বিশ্বদেব। হঠাৎ সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
স্বামীর এমন মৃত্যুতে শেফালী রানী মেয়ে স্মৃতি বালা ও ছোট ছেলেকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এমন কঠিন বিপদের দিনে আগে থেকে শেখা সেলাইয়ের কাজটি সহায়ক হিসেবে পথ দেখায়। তিনি দরজির দোকান দেন রায়গঞ্জ বাজারে। ওই কাজ থেকে হওয়া আয় দিয়ে চলতে থাকে তাঁদের সংসার।
রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে স্মৃতি বালা। এর আগে জেএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও ভালো ফলাফল করেছিল সে। এমন ভালো ফলাফলের পর উচ্চমাধ্যমিকে ভালো কলেজে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে স্মৃতি বালা।
স্মৃতি বালা প্রথম আলোকে বলে, ‘বাবা যখন মারা যান, তখন আমি অনেক ছোট। ভাইটি মায়ের কোলে। তখন থেকে মা-ই আমাদের কাছে সব। আমাদের জন্য মায়ের সব চেষ্টা। পড়ালেখা করে মায়ের দুঃখ দূর করব, ছোট ভাইটিকে মানুষের মতো মানুষ করব, এটিই আমার প্রতিজ্ঞা।’
স্মৃতি বালার মা শেফালী রানী সরকার বলেন, ‘ছেলেটির জন্মের বছরেই ওদের বাবা হঠাৎ মারা যান। তাঁর রেখে যাওয়া এক লাখ টাকায় দুই বিঘা জমি রাখা আছে। সেখান থেকে কিছু ধান পাওয়া যায়। কিন্তু এতে তিনজনের সংসার চলে না। এ জন্য দরজির কাজ শুরু করি। সেই সঙ্গে শুরু করি পড়ালেখাও।’
শেফালী রানী আরও বলেন, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে চলতি বছর নিমগাছী ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএম শাখার পরীক্ষার্থী হিসেবে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। পড়ালেখায় ভালো মেয়েটি একটু সুযোগ পেলে আরও ভালো করতে পারবে বলে তাঁর বিশ্বাস। ছেলেমেয়ের জন্য তিনি বাকিটা জীবন লড়াই করতে চান। তিনি বলেন, ‘ওরা মানুষ হলেই আমার শান্তি।’