চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ মিছিল। গতকাল বিকেলে
চট্টগ্রাম  বন্দর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ মিছিল। গতকাল বিকেলে

এনসিটি নিয়ে বিক্ষোভ

ব্যবস্থা নিচ্ছে বন্দর, তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিক্ষোভকারীদের

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যেসব কর্মচারী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুকের এক অফিস আদেশে সব বিভাগীয় প্রধানদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গতকাল বন্দর ভবনে বিএনপিপন্থী শ্রমিক-কর্মচারীরা এনসিটি ইজারার সরকারি প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। মিছিলটি বন্দর ভবন চত্বরে ঘুরে এক পর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। বন্দর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। একই দিন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।

বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিস আদেশে বলা হয়, ২৯ জানুয়ারি সকাল প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে অফিস চলাকালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কতিপয় কর্মচারী বন্দর ভবন এলাকায় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন, যা দাপ্তরিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। বন্দরে কর্মরত থেকে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বন্দর কর্মচারী প্রবিধানমালা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আদেশে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী কর্মচারীরা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছেন এবং এর বিরোধিতা করেছেন, যা কর্তৃপক্ষের মতে সরকারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন অংশগ্রহণকারী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমেও বক্তব্য দেন।

এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯, সরকারি চাকরি আইন–২০১৮, বন্দর কর্মচারী চাকরি বিধিমালা–১৯৯১ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধি অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই আদেশে।

বন্দরের এই নির্দেশনার কথা জানানো হলে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়কারী মো. হুমায়ুন কবির আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছি। আদালতের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। রায় নিয়ে কেউ কোনো বিরূপ মন্তব্য করেনি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ নেই। এখন বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সরকার যদি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে বাধা দেয়, তাহলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

২০০৭ সালে নির্মিত হওয়া এই টার্মিনাল নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। গত বছরের ৭ জুলাই থেকে টার্মিনালটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা এই টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী কনটেইনার জাহাজ থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার ওঠানো-নামানো করা হয়।

টার্মিনালটি নির্বাচনের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ১৫ বছর মেয়াদে পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এখন শেষ মুহূর্তে দর–কষাকষির প্রক্রিয়া চলছে। দর–কষাকষি চূড়ান্ত হলেই আগামী সপ্তাহে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।