ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজে একজন বিএনপি নেতা। তাঁর ওপর হামলা করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরাই। চাহিদামতো ভিজিএফ চালের কার্ড না পেয়ে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদারকে (৬২) মারধর করছেন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় লোকজন ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। মারধরের শিকার চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর নান্দিগ্রাম ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম জানান, শ্যামপুর ওয়ার্ডে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ চালের কার্ডের তালিকা দিয়েছেন। এই তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে ওই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রেজাউল ও বিএনপি নেতা আফাজের পছন্দ না হওয়ায় চেয়ারম্যান রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথরোধ করে তাঁরা মারধর করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কার্ড করতে চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার আমার কাছে থেকে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। এ জন্য রাস্তায় ধরে চেয়ারম্যানকে মারধর করেছি আমরা।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইউএনও কার্যালয়ে যাওয়ার পথে শ্যামপুর গ্রামে পথ রোধ করে তাঁকে থামতে বলেন সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল, আফাজ, বিপ্লব, বেলালসহ আরও পাঁচ থেকে সাতজন। থামলে তাঁরা কার্ড নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তাঁরা তাঁদের নিজেদের লোকজনকে দেওয়ার জন্য ২৪০টা কার্ড চেয়েছিলেন, সেই কার্ড দাবি করেন।
আজাদ আলী সরদার বলেন, ‘আমি বলে দিয়েছি যে বিধি মোতাবেক ইউপি সদস্য ও দলের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে কার্ড বিভাজন করা হয়েছে। আর কোনো কার্ড দেওয়া যাবে না। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় আমার কাছে থাকায় দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। তাঁদের কাছে টাকা দাবি করেছি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট কথা।’
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনি বুকে–পিঠে আঘাত পেয়েছেন। পায়ে জখম হয়েছে। বুকে–পিঠে এক্স–রে করার জন্য ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন। এক্স–রে করার জন্য হাসপাতালের বাইরে এসেছেন।
হামলার ঘটনায় চেয়ারম্যান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা তদন্তে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুরের ইউএনও মাশতুরা আমিনা বলেন, ‘ঘটনার পর চেয়ারম্যান আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি।’