
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা একই পরিবারের চারজনের লাশ পাশাপাশি কবরে একসঙ্গে দাফন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে কালামের স্ত্রী ও তিন সন্তানকে একসঙ্গে দাফন করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার একই কবরস্থানে কালামকে দাফন করা হয়েছে।
স্বজনেরা জানান, ১০ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকায় একটি নয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভোরে চুলা কিংবা লাইটার জ্বালানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। ওই ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন কালাম। তাঁদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া এলাকায়। বিস্ফোরণে কালাম, তাঁর স্ত্রী সায়মা, ছেলে মুন্না এবং দুই মেয়ে মুন্নি ও কথা দগ্ধ হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে কালাম মারা যান। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর মেয়ে কথা মারা যায়। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাঁর ছেলে মুন্না ও দুপুরে মেয়ে মুন্নি মারা যায়। সর্বশেষ শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টায় মারা যান স্ত্রী সায়মা।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকগ্রস্ত উত্তর কনকদিয়া গ্রামের মানুষ। কালামের বাড়ির পুকুরের পূর্ব পাশে পাশাপাশি পাঁচটি কবর। প্রথম কবরটিতে গত মঙ্গলবার রাতে কালামকে, তাঁর বাঁ পাশের কবরে আজ শনিবার স্ত্রী সায়মা ও তাঁর পাশে ছেলে মুন্নাকে দাফন করা হয়েছে। কালামের অপর পাশে দুই মেয়ে মুন্নি ও কথাকে দাফন করা হচ্ছে।
কালামের ছোট ভাই মো. রাজীব বলেন, তিনি চট্টগ্রামে থাকেন। ভাইয়ের পরিবারের সবার দগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে যান ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। ভাই মারা যাওয়ার পর কবর দিয়ে আবার ঢাকায় চলে যান ভাবি, ভাতিজা ও দুই ভাতিজির কাছে। বুধবার ভাতিজি কথা মারা যাওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে ডেকে জানান, অন্যদের অবস্থাও ভালো না। তাই কথাকে নিয়ে রওনা না দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মুন্না ও দুপুরে মুন্নি মারা যায়। শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টায় মারা যান সায়মা। চারজনের লাশ নিয়ে শুক্রবার রাতে রওনা দেন। সকালে বাড়ি পৌঁছান। পরে জানাজা শেষে ভাইয়ের পাশে চারজনকে দাফন করেন।
কালামের চাচাতো ভাই মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, পরিবারটি খুবই দরিদ্র। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে কালাম ছিলেন তৃতীয়। বড় ভাই মান্নান সম্প্রতি মারা গেছেন। বাবা-মা মারা গেছেন ২৫-৩০ বছর আগে। তিন শতক জমি ছাড়া তাঁদের কোনো সম্পদ নেই। সেখানেই প্রায় ৩০ বছর আগে চার ভাই মিলে আধা পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। চারপাশে দেয়াল পর্যন্ত করার পর অভাবের কারণে আর পুরো ঘর নির্মাণ করতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে সবাই ঢাকায় পাড়ি জমান।