ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম। গতকাল রোববার দুপুরে জয়পুরহাট সদর থানাসংলগ্ন এলাকায়
ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম। গতকাল রোববার দুপুরে জয়পুরহাট সদর থানাসংলগ্ন এলাকায়

পুনর্বাসনের নামে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ জয়পুরহাটের বিএনপি নেতার

জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগের লোকজনের কাছ থেকে পুনর্বাসনের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় ও ত্রাণসামগ্রী বিক্রির মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল রোববার দুপুরে জয়পুরহাট সদর থানাসংলগ্ন নিজ বাসভবনের পাশে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ফয়সল আলিম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা ও পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মী ও তাঁর সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ফয়সল আলিম বলেন, সৎভাবে বিএনপি করতে হবে। আওয়ামী লীগের বাড়ি পোড়ানো ঠেকানোর নামে টাকা নেওয়া যাবে না। মামলা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা যাবে না। হিন্দু সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়েও টাকা নেওয়া চলবে না। ত্রাণের সম্পদ কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সম্পত্তি বিক্রি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জয়পুরহাটের চকবরকত এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনের ১৬টি গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ফয়সল আলিম বলেন, ‘জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে চাঁদাবাজির কোনো স্থান হবে না। স্থানীয় নির্বাচন আসছে। কোনো চাঁদাবাজকে আগামী দিনে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির জনগণ ভোট দেবে না। এসব বন্ধে নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

যোগাযোগ করা হলে ফয়সল আলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সত্য কথাই বলেছি। আমাদের দলের বদনাম হয়েছে। আগে আওয়ামী লীগের ঘর পোড়ানো হবে না বলে টাকা নেওয়া হয়েছে, এখন পুনর্বাসনের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সত্য লুকিয়ে লাভ নেই।’ তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা স্পষ্ট—দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না। কোনো চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি বরদাশত করা হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।