ইমন সৈয়দ
ইমন সৈয়দ

এনসিপি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন পার্বত্য অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দলটির পার্বত্য অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ইমন সৈয়দ। আজ রোববার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।

ইংরেজিতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে ইমন সৈয়দ লেখেন, ‘আমি ইমন সৈয়দ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রধান সংগঠক এবং পার্বত্য অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি এনসিপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হয়েছিল। এখন প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হলো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমন সৈয়দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের মানুষের যে স্বার্থ এবং আকাঙ্ক্ষা, সেটাকে তারা ধারণ করতে পারবে, এই আশায় এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের চিন্তায়, আচরণে ও কার্যক্রমে কোনোভাবেই আমার মনে হয়নি, তারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ধারক–বাহক। যদিও তারা মুখে বলেছে, কিন্তু কার্যক্রমে ও আচরণে তারা পুরোনো ব্যবস্থাকে আরও শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে। এ কারণে আমি পদত্যাগ করেছি।’

অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতির মানুষ। জুলাইয়ের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং সত্যিকার অর্থের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তকে সামনে রেখে আমি মাঠে থাকব। আমি চেষ্টা করব, মানুষের স্বপ্ন ও আশা ধারণ করে, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে। যদি কারও কার্যক্রম সত্যিকার অর্থে জুলাইয়ের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে হয়তো আমি যুক্ত হতেও পারি। তবে আপাতত এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’

এর আগে গতকাল শনিবার এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন বান্দরবান জেলার সদস্যসচিব মোহাম্মদ এরফানুল হক। বান্দরবান আসনে বাইরে থেকে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম নগরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারীর পদ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপি থেকেও সরে দাঁড়ান।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মোহাম্মদ এরফানুল হক লেখেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল নাগরিকভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি গঠিত হলেও রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দলটির একাধিক সিদ্ধান্তে জনগণ ও দলের নেতা–কর্মীরা হতাশ হয়েছেন। দল গঠনের পর তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।