
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি ওরসের মেলা থেকে ফেরার সময় নৌকার যাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নৌকায় থাকা এক তরুণ পানিতে পড়ে তলিয়ে যান। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। তবে ঘটনাস্থল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে নদী থেকে নিখোঁজ তরুণের জ্যাকেট ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে হালদা নদীর হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ তরুণের নাম মোহাম্মদ সাব্বির (১৯)। তিনি রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মইশকরম গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে রামদাস মুন্সির হাটে একটি মাজারের ওরসে দুই দল যুবকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মধ্যরাতে এক পক্ষ নৌকায় করে রাউজানের বাড়িতে ফেরার পথে অপর পক্ষ হামলা চালায়। নদীতে থাকা নৌকা টেনে ধরে সেখানে ওঠা যুবকদের মারধর করে হামলাকারীরা। এ সময় তিনজন নদীতে পড়ে যান। দুই যুবক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাব্বির নামের এক তরুণ তলিয়ে যান। তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় সঙ্গে থাকা অন্যরা জানিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে ওই তরুণের সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা এখনো হালদা পাড়ে অবস্থান করছেন।
আনোয়ারুল আজিম নামের প্রত্যক্ষদর্শী এক তরুণ প্রথম আলোকে বলেন, রাউজান থেকে হাটহাজারীর ওই ওরসে গিয়েছিলেন তরুণ সাব্বির এবং আরও কয়েকজন। তাঁদের নৌকায় হামলা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে জেলেপাড়ায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় সাব্বিরের মুঠোফোন ও পরনের জ্যাকেট উদ্ধার করেছেন এলাকার লোকজন।
হাটহাজারীর রামদাস মুন্সির হাটের হালদা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, নৌকায় উঠে বসার পর নিখোঁজ সাব্বিরদের নৌকাটি কিছু যুবক টেনে ধরেন কিনারে। বাকি কয়েকজন লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকলে কয়েকজন নদীতে লাফ দেন। এমন দৃশ্য নদীর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় দেখা গেছে। তবে হামলাকারীদের কারও পরিচয় এখনো তাঁরা জানতে পারেননি। নিখোঁজ তরুণের সন্ধানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও পুলিশ।