কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরন্নবী সরকার পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার সকালে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে
কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরন্নবী সরকার পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার সকালে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে

দলের নীতিগত বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে কুড়িগ্রামে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আদর্শিক বিচ্যুতি ও একনায়কতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরন্নবী সরকার পদত্যাগ করেছেন।

আজ রোববার সকালে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরন্নবী দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথাও জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে নুরন্নবী বলেন, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে তিনি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের তৃণমূল শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আদর্শিক বিচ্যুতি ও একনায়কতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আত্মসম্মান ও আদর্শ বজায় রেখে দলে থাকা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে নুরন্নবী অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন। দলের অন্যরা কোনো প্রস্তাব দিলে তিনি তা গুরুত্ব দিতেন না। নুরন্নবীর ভাষ্য, কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপিতে আতিকুরের একক কর্তৃত্ব চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর নুরন্নবী সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাই তিনি কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করলেন, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, জেলা এনসিপিতে নুরন্নবীর কোনো পদই ছিল না। তিনি (আতিকুর) কেন্দ্রীয় নেতা। জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত তিনি দেন না। জেলায় কোথায় কোন কমিটিতে কাকে পদ দেওয়া হবে, তা জেলা কমিটিই ঠিক করে। নুরন্নবী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া বলেন, জেলা কমিটিতে চারজন সাংগঠনিক সম্পাদক আছেন। নুরন্নবী তাঁদের একজন। হঠাৎ কেন তিনি পদত্যাগ করলেন, তা তাঁর জানা নেই। জেলা কমিটির সঙ্গে নুরন্নবীর খারাপ সম্পর্ক ছিল না বলেও জানান তিনি।