
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের কামড় ও আঁচড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামি ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপের মসজিদ ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বোয়ালখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল হালিম (৪৮), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। তাঁরা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তর কালডেঙ্গার শিকদারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় আবদুল মান্নান আদালতে একটি নালিশি মামলা (সিআর মামলা) করেন। পরে আদালত মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরোয়ানার আসামি মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ। এ সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরানো হয়। হাতকড়া পরানোর পর মহিউদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশ সদস্যদের কামড় ও আঁচড় দিতে থাকেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে মহিউদ্দিন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যান। তবে বেশি দূর যাওয়ার আগেই তাঁকে আবার ধরে ফেলেন পুলিশ সদস্যরা।
এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মহিউদ্দিনের আত্মীয় গ্রাম পুলিশের সদস্য জেবল হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে আসামি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের কামড় ও আঁচড় দিতে থাকেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।