
নাটোরের গুরুদাসপুরে মা–বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর–লুটপাটসহ জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে মেয়ে ও জামাতার বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় পুরানপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা মসলেম সরকার (৬২) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন মেয়ে বিউটি বেগম (৪০), জামাতা পুলিশ কনস্টেবল আবু সাইদ (৫০) ও তাঁদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী সরোয়ার শাহ (৪৭) ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন। উল্লেখ্য, সরোয়ার শাহর বিরুদ্ধে শহরের একটি সিনেমা হল ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা চলছে আদালতে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আকবর আলী বলেন, সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে তালা ভেঙে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতিকে উদ্ধার করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী মসলেম সরকার জানান, তিনি তাঁর পাঁচ মেয়ের নামে ৫৬ দশমিক ৫০ শতক জায়গা শর্তসাপেক্ষে লিখে দেন। শর্তে উল্লেখ ছিল, তিনি ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৫৫) যত দিন জীবিত থাকবেন, লিখে দেওয়া জায়গা তাঁরাই ভোগ করবেন। শর্ত অনুযায়ী, ওই জায়গার ওপর দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করে তা ভাড়া দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। সোমবার সকালে সরোয়ার শাহের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন এসে চড়াও হন। তাঁরা এক পর্যায়ে তাঁদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন এবং ভাড়া দেওয়া দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে জায়গা দুটি দখলে নেন।
মসলেম সরকার আরও বলেন, থানায় অভিযোগ দিয়ে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মসলেম সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি লিখে দেওয়ার পর অন্য চার মেয়ে জায়গা দখলের বিষয়টি নিয়ে মাথা না ঘামালেও মেয়ে বিউটি বেগম তাঁর স্বামীর প্ররোচনায় বাড়িসংলগ্ন ১৬ শতক জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত। বাধ্য হয়ে তিনি মেয়ে বিউটি বেগমকে লিখে দেওয়া জমির শর্ত বাতিল ও শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় আদালতে মামলা করেন। মামলাটি চলছে। এমন অবস্থায় বিউটি বেগম সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে জমির দখল নিতে এ ঘটনা ঘটান।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও কামাল হোসেন বলেন, তাঁরা মসলেম সরকারের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বাবা-মেয়ের দ্বন্দ্বের কারণে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে তাঁদের কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই অন্যায়ের বিচারসহ তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সরোয়ার শাহ বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
অভিযুক্ত বিউটি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জায়গা আমি দখলে নিয়েছি। স্বামী কর্মস্থলে থাকায় লোক ভাড়া করেছি।’
বিউটির স্বামী আবু সাইদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক দেনদরবার হলেও শ্বশুর জমির দখল ছেড়ে দেননি। উপরন্তু তিনি দোকান ভাড়া দিয়ে খাচ্ছেন। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। বিউটি কীভাবে দখলে নিয়েছে বা কী ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বলতে পারব না।’
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আকবর আলী বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।