
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যদি পরিকল্পনা থাকে, যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে একটি জায়গাকে কীভাবে মানুষের ভালোর জন্য, মানুষের উপকারের জন্য সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, এই জায়গা হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখী লেনের পাশের বর্জ্য অপসারণ করে গাছ রোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা অপসারণ, মাটি ভরাট, পালিসেডিং, সারফেস ড্রেন নির্মাণ ও নেটিংসহ সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় এই গাছ রোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে রূপান্তর।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে সাভার সেনানিবাসে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকে ফেরার পথে ওই রূপান্তর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল এবং আজ প্রায় দুই মাস পর এই জায়গাতে কী কী পরিবর্তন এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই অন্তত এই চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কমবেশি যেসব মানুষ আছেন, তাঁদের কাছে অবশ্যই দেখতে যেমন ভালো লাগছে, তাঁদের পক্ষে একটু ভালো পরিবেশে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয়েছে।
সড়কের পাশে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জায়গাটিকে সুন্দর করে গড়ে তুলেছে। এখন জায়গাটির সুন্দর অবস্থা ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকার মানুষকে গ্রহণ করতে হবে। আপনারা যদি সরকারকে সহযোগিতা করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা ধীরে ধীরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যে বিষয়গুলো আছে, সমস্যা রয়েছে, সেগুলোকে আমরা সমাধান করতে পারব। এলাকাগুলো সুন্দরভাবে আমরা গড়ে তুলতে পারব, সবুজ করে গড়ে তুলতে পারব, যেখানে মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চার কিলোমিটার পরেও যতটুকু ঢাকা জেলা প্রশাসকের এরিয়া আছে, এর ভেতরে যেসব মিল-ফ্যাক্টরি আছে, তাদের সঙ্গে সামাজিকভাবে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে সামনে আরও যে জায়গা আছে, যেগুলোতে এখনো ময়লার স্তূপ জমে আছে, সেই জায়গাগুলোর ব্যাপারেও তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এসব জায়গা ডেভেলপ করার জন্য যদি কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে অবশ্যই এই এলাকাটিকে ধীরে ধীরে আরও সুন্দর রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। যেখানে মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে এবং সে সৌন্দর্যকে অনুভব করতে পারবে ও উপভোগ করতে পারবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা অপসারণ, মাটি ভরাট, পালিসেডিং, সারফেস ড্রেন নির্মাণ ও নেটিংসহ সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানটিকে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা, রঙ্গন ফুলসহ বিভিন্ন ধরনের ৬ হাজার ১৩০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। ১০ হাজার টন ময়লা অপসারণ করে স্থানটিতে ৮ হাজার ৮০০ বর্গমিটার এলাকায় মাটি এবং একই পরিমাণ জায়গায় বালু ভরাট করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে পৃথকভাবে ১ কিলোওয়াটের ২টি সোলার সিস্টেম, পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে ১ কিলোওয়াটের ১টি উইন্ড টারবাইন, ১২০টি ইলেকট্রিক লাইট, পানিনিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।