
দেশে অর্থনৈতিক সংস্কার এই বাজেটের মাধ্যমে সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘বাজেটে কিছু সৃজনশীল জায়গা তারা (সরকার) দেখিয়েছে—কিছু পণ্যের কর কমিয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। এগুলো ইতিবাচক হলেও এগুলো আসলে বাস্তবায়নযোগ্য হবে না বলে আমরা মনে করছি।’
আজ শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম নগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবসহ দলের অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে ১১–দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের।
বাজেটে কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পুরো অর্থনীতির এখন তিনটা জায়গাতে মৌলিক সমস্যা মনে করি। ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাত ও কর্মসংস্থান। বাজেট–ঘাটতি পূরণে সরকারকে ঋণ নিতে হবে, এতে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগ কমে কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের বিষয়টি এই বাজেটে অনুপস্থিত।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে? বড় বাজেট মানে সেখানে কিন্তু বড় দুর্নীতি করানোর সুযোগ থাকে। এই যে বিভিন্ন কার্ড বলেন, খাল খনন কর্মসূচি বলেন, সরকারদলীয় এমপিরা যে বরাদ্দ পাচ্ছে, যেটা বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছে না, সেটা কীভাবে; কোথাও কোনো জবাবদিহি নাই। কোথাও কোনো স্বচ্ছতা নাই।’
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এস আলমসহ এই বড় বড় যারা মাফিয়া রয়েছে, ফ্যাসিবাদের দ্বারা পুষ্ট হয়ে জনগণের টাকা লুট করেছে, এখন বিদেশে আছে, বিদেশে টাকা পাচার করছে; তাদের কীভাবে বিচারের আওতায় আনবে, সেই ধরনের কোনো বক্তব্য কিন্তু আমরা পাইনি। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংক আবার এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থা যেই নাজুক খাতে পরিণত হয়েছে, এখন যদি ৩ কোটি গ্রাহক বা আমানতকারী ইসলামী ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অন্য ব্যাংকের ওপর এই প্রভাবটা পড়বে। ফলে এই সামগ্রিক ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দিশা দেখানোর মতো কোনো বাজেট এটা হয়নি। ফলে সেই জায়গা থেকে আমাদের এই সমালোচনাগুলো থাকবে। আমরা শুধু সমালোচনাই করছি না, প্রস্তাবনাও দিচ্ছি। সংসদে এবং সংসদের বাইরে আমরা সেই কথাগুলো অব্যাহতভাবে বলে যাব।’
চট্টগ্রামের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিল প্রসঙ্গে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা নিষিদ্ধ সংগঠন কীভাবে মাঠে মিছিল করে, সে বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে জবাব চাই। এখন আমরা যদি মাঠে নামি, তাহলে এটা বলবে মব। তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে, এখন একটা নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তারাই দায়িত্ব নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এটা নিয়ন্ত্রণের বিষয়। আমরা সর্বদা আওয়ামী লীগের বিচার চাই।’