জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। গতকাল সকালে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে
জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। গতকাল সকালে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে

আড্ডা-স্মৃতিচারণায় মুখর যশোরের বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতবর্ষ উৎসব

আড্ডা, গল্প ও স্মৃতিচারণায় মেতেছেন যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে নানা আয়োজনে উদ্‌যাপিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী। গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান। এতে অংশ নিয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

গতকাল সকাল নয়টার আগেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক সিএসপি (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) কর্মকর্তা মো. গোলাম রসুল। এরপর অলোচনা সভা শুরু হয়। সভা শেষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণা করে তাঁদের বক্তব্য দেন। মাঝখানে নামাজ ও দুপুরের খাওয়ার বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয় স্মৃতিচারণা। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলে এ পর্ব। সন্ধ্যায় স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান শুরু হয়, চলে রাত ১১টা পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান। এরপর যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এরপর শুরু হয় প্রাক্তন শিক্ষর্থীদের স্মৃতিচারণা। নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে বেলা আড়াইটায় শুরু হয় এলাকার উন্নয়নমূলক আলোচনা যা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় শুরু হবে সংগীতানুষ্ঠান। মাঝখানে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে হবে র‍্যাফেল ড্র। এরপর আবার শুরু হবে সংগীতানুষ্ঠান, যা চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত। সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনব্যাপী আয়োজন।

১৯৬১ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেছিলেন আলতাফ হোসেন। তিনি প্রকৌশলী, যশোর শহরে থাকেন। শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, ‘ক্লাসে আমরা ৬০ জন শিক্ষার্থী ছিলাম। বেশির ভাগই হিন্দু। মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল পাঁচজন। অনুষ্ঠানে এসে বন্ধুদের একজনের সঙ্গেও দেখা হয়নি। একটু খারাপ লাগছে। তবে পরের ব্যাচগুলোর অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে ভালোই সময় কাটছে।’

শতবর্ষপূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে বর্ণিল আয়োজনে সাজানো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। সোমবার দুপুরে বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে

নজরুল ইসলাম চিকিৎসক। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘৪৫ বছর আগে ১৯৮০ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেছিলাম। পরে আমেরিকায় চলে যাই। ৩৫ বছর ধরে সেখানে আছি। অনুষ্ঠানে এসে ছয়-সাতজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে অড্ডা দিচ্ছি, গল্প করছি। খুবই ভালো লাগছে।’

১৯৮৫ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন শামসুন্নাহার। তিনি সরকারি চাকরিজীবী। মাঠে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার একফাঁকে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে এসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের খবর নিচ্ছি।’

বসুন্দিয়া হাই ইংলিশ স্কুল ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী স্বীকৃতি পায় ১৯২২ সালে। পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বসুন্দিয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বসুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। চলতি বছর ১০৭ বছর পূর্ণ হয় প্রতিষ্ঠানটির।