জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ফেলে বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় অবরুদ্ধ হন চিকিৎসা কর্মকর্তা মোর্শেদুল ইসলাম। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। আজ দুপুরে তোলা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ফেলে বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় অবরুদ্ধ হন চিকিৎসা কর্মকর্তা মোর্শেদুল ইসলাম। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। আজ দুপুরে তোলা

‎সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক, ঘেরাও করলেন স্থানীয়রা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে বাইরে গিয়ে পাশের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মোর্শেদুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের সামনের দ্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ঘটনাস্থলে গিয়ে মোর্শেদুল ইসলামকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে একটি ফোন পাওয়ার পর হাসপাতালের চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করে বাইরে যান মোর্শেদুল ইসলাম। তখন তাঁর চেম্বারের সামনে কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাঁর পিছু নিয়ে পাশের দ্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে তাঁকে রোগী দেখা অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ওই চিকিৎসককে ঘিরে রাখেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফোন পেয়ে এখানে এসেছি। হাসপাতালে ওই সময় কোনো রোগী ছিল না।
মোর্শেদুল ইসলাম, অভিযুক্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা

ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির পরিচালক রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘মোর্শেদুল ইসলাম আমাদের এখানে এসেছিলেন এবং রোগী দেখেছেন। তবে তিনি কী কারণে হাসপাতালের দায়িত্বের সময় এখানে এসেছেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।’

তবে অপেক্ষারত রোগীদের ফেলে আসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোর্শেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফোন পেয়ে এখানে এসেছি। হাসপাতালে ওই সময় কোনো রোগী ছিল না।’

হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে বাইরে গিয়ে রোগী দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আবু শফি মাহমুদ, আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে বাইরে গিয়ে রোগী দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু শফি মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন আল-মামুন।