টাঙ্গাইল জেলার মানচিত্র
টাঙ্গাইল জেলার মানচিত্র

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

মির্জাপুরে হত্যা মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একজন নিহতের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আদিল খানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী মো. সুজন মিয়া। এ বিষয়ে তিনি বৃহস্পতিবার মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মির্জাপুর থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে কলেজছাত্র ইমন আহত হন। তিনি ১৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান। ঘটনার প্রায় ১৭ মাস পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর উপজেলার ভানুয়াবহ গ্রামের মো. সুজন মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মো. গোলাম মাহবুব খান গত ১ জানুয়ারি মামলাটি আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশনা দেন। এ মামলায় মো. আদিল খান ৩১ নম্বর আসামি।

সুজন মিয়ার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে মো. সুজন মিয়া গোড়াই ইউপি কার্যালয়ে তাঁর ৩৫ দিন বয়সী ভাতিজার জন্মনিবন্ধন করতে যান। সেখানে তাঁকে দেখে আদিল খান এগিয়ে আসেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়েছে তা জানতে চান। এ ছাড়া মামলা থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহার না করলে ইউপি কার্যালয় থেকে সুজনকে কোনো সেবা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

সুজন মিয়া অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর ভাতিজার জন্মসনদের জন্য গেলে আদিল খান হিংস্রভাবে চড়াও হন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় দ্রুত মামলা না তুলে নিলে পরিবারের সদস্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

মুঠোফোনে মো. আদিল খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তাকে অনুরোধ করে বলেছি, ভাই তুমি আহত হওয়ার পর তোমার যখন অভাব ছিল আমি তোমাকে আর্থিক সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহায়তা করেছি। আমার অপরাধ না থাকার পরও কেন তুমি মামলা করলে।’

ইউপি সদস্য আদিল খান দাবি করেন, ‘আমার নামে যে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ১৭ মাস পর কেন আমার নামে মামলা করল? আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। ঘটনার দুই-তিন মাস পর মামলা করলে তা–ও চলত।’

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ অভিযোগ পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।