নিহত তরুণ মোহাম্মদ রাব্বি
নিহত তরুণ মোহাম্মদ রাব্বি

ময়মনসিংহে কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি (২৫) নামের এক কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাসকান্দা পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন একটি কম্পিউটার দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়ল বাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত কয়েকজনের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম বলেন, ‘তিনটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাসা থেকে দোকানে যাওয়ার পর রাব্বির ওপর কয়েকজন দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলুসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। পূর্বের একটি মারামারির ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। গতকাল বুধবার এ বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে দেলোয়ার হোসেন নেতৃত্ব দেন, কিন্তু সমঝোতা হয়নি।

হত্যার ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায়

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনিনি। তবে এমন ঘটনা ঘটানোর মতো লোক দেলোয়ার হোসেন নয়। বিষয়টি ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পূর্বের বিরোধে গতকাল দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য বসা হয়েছিল। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় আজ সকালে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। জড়িতদের নাম পেয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে, তবে তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।