
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ এবং নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সের টাকা গণনা করে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার সকাল নয়টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গণনা শেষ হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, ৩ ভরি ১৩ আনা রূপা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭ দশমিক ৩৩ ইউরো, হংকংয়ের ১০ ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফা গণনায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারও আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা করে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখন বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি ও দিরহামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়।
গত ২২ জুন প্রথম দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ ছিল চার দিনের দান। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়। এসব অর্থ জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।
১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানের (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সে সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে তখন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা হয়। কেউ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নতুন দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার।
হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি সভা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
সর্বশেষ মাজারের আর্থিক ব্যবস্থা স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গঠিত কমিটির ২৩ সেপ্টেম্বরের সভায় মাজারের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের কাজে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন কমিটির সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।