জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন এ আর খান। গত সোমবার
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন এ আর খান। গত সোমবার

ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এ আর খান

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের চেষ্টা করেছিলেন এ আর খান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এলাকায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

এ আর খান নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও গ্রামের আবদুল আজিজ খানের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি গত সোমবার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ আর খান ২০০৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তবে দলীয় নেতাদের সিদ্ধান্তে সে সুযোগ পাননি। পরে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি।

স্থানীয় নেতা-কর্মী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা না দেখে এ আর খান দল থেকে সরে এসে নিজেই নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। দলটির নাম ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডি)। দলের স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সম্ভাব্য প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ঢেঁকি। তবে দলটি এখনো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পায়নি। এ আর খান দলটির প্রেসিডেন্ট।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, এ আর খানের পেশা শিক্ষকতা। এ পেশা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩১২ টাকা। এ ছাড়া তাঁর অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১০ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৬ টাকা। ব্যাংকে তাঁর কোনো জমা টাকা নেই। স্ত্রীর নামে কোনো স্বর্ণালংকার না থাকলেও নিজের নামে ১৫ ভরি স্বর্ণ দেখানো হয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ৫ লাখ টাকার আসবাবের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তাঁর নিজের নামে কোনো বাড়ি, কৃষিজমি বা অকৃষিজমিও নেই।

এ আর খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে এমপি হতে চাইলেও তাদের কার্যক্রম দেখে দল থেকে সরে এসে নিজেই দল গঠন করি। সেটির নিবন্ধন না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। যদি কোনো কারণ দেখিয়ে মনোনয়নপত্র না আটকায়, তাহলে আমি এবার নান্দাইল থেকে এমপি হয়ে আসব, ইনশা আল্লাহ। আমি বিগত সময় উপজেলার ১৯৫টি গ্রাম ঘুরে পাড়া-মহল্লায় মানুষের কাছে গেছি। দলমত-নির্বিশেষে সব এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসেন।’