
পাবনা মেডিকেল কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ওড়ানো জাতীয় পতাকা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। জাতীয় পতাকার অবমাননা ও অপব্যবহারের অভিযোগে আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট কলেজের পতাকাটি খুলে নিলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। পরে নতুন একটি পতাকা ওড়ানো হলে বিকেলে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উড়ায়। বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে বলেন, পতাকাটি ছেঁড়া ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকার অপব্যবহার ও অবমাননা হয়েছে। এরপর মেডিকেল কলেজের কর্মচারীদের দিয়ে পতাকাটি খুলিয়ে নিয়ে যান তিনি।
খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। একপর্যায়ে তাঁরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধ চলার পর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতাউর রহমানকে সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা দীর্ঘক্ষণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নতুন একটি পতাকা টাঙিয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্দু বালা বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, পতাকাটি ছেঁড়া ছিল। তাই ম্যাজিস্ট্রেট খুলে নিয়েছিলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।’
পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আলোচনায় সব ঠিক হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে সঠিক নিয়মেই জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছিল। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতার অপব্যবহার করে পতাকাটি খুলে নেন। তাই তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
এ প্রসঙ্গে পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ইবনে আলী বলেন, সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে ক্যাম্পাসে টাঙানো পতাকা ছেঁড়া ও রং ঠিক নেই দাবি করে খুলে ফেলতে বলেন। তাঁর নির্দেশে এক কর্মচারী পতাকাটি খুলে ফেললে তিনি সেই পতাকা নিয়ে চলে যান। ওই ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর নাম-পদবি কিছুই বলেননি। পতাকায় ভুল থাকলে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। এভাবে খুলে নেওয়া ঠিক হয়নি।