রাজশাহীর পবা উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে আলু ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে হিমাগারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হিমাগারের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুরের রহমান সিডস স্টোরেজে (হিমাগার) এ ঘটনা ঘটে। পরে হিমাগারের সামনে পবা-তানোর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। বেলা দুইটার দিকে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে সমবায় সমিতির অফিসে যান।
বেলা একটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। আহত আহাদ আলী সড়কে শুয়ে আছেন। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহাদ আলীর অভিযোগ, ভাড়া নিয়ে কথা বলতে হিমাগারে গেলে মালিকপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। বাইরে আসার পর আবার দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় খবর পেয়ে সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আসেন। হিমাগারের বাইরে দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কির সময় পরিস্থিতি সামলাতে আহাদ আলী এগিয়ে গেলে কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে লোহার হুক দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয়। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
আহাদ আলীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলুর সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এ কারণে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু আন্দোলন করে আসছি, মেইন মুখ, সে জন্য আমাকে মারা হয়েছে।’
আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া পাঁচ টাকা এবং প্রতি বস্তায় প্রথম পাঁচ কেজি আলু ভাড়ামুক্ত রাখতে হবে।
ঘটনায় আহত আলাউদ্দিন বলেন, হিমাগারে যাওয়ার পর কয়েকজন তাঁদের গালাগাল করেন। পরে হাতাহাতি শুরু হলে কয়েকজন মিলে তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর গেঞ্জি ছিঁড়ে দেন। হামলাকারীদের সবার নাম তিনি জানেন না।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, হিমাগারভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করছেন। আগে কেজিপ্রতি ভাড়া ৮ টাকা করা হয়েছিল। পরে তা ৬ টাকা ৭৫ পয়সায় নামানো হয়। সরকার আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা নির্ধারণ করেছে।
গত ২৪ আগস্ট রাজশাহীর আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারভাড়া নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে ২৬ জুলাই রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি পাঁচ টাকা ভাড়া এবং বস্তাপ্রতি প্রথম পাঁচ কেজি আলু ভাড়ামুক্ত রাখার সুপারিশ করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে হিমাগারের ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি হয়। আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বাইরে আসার পাঁচ থেকে সাত মিনিট পর হিমাগারের ফটকের দিক থেকে কয়েকজন বের হয়ে এসে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় আহাদ আলীকে মারধর করা হয়।
রহমান সিডস স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল হালিম বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে ফোনে বিষয়টি জানতে পারেন। সরকার এ বছর কেজিপ্রতি ছয় টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে এবং তাঁরা সেই অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা পাঁচ টাকা ভাড়া দাবি করছেন। ভাড়া কমানোর বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই, এ জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে হবে। হিমাগারে ভাঙচুরের বিষয়ে আবদুল হালিম বলেন, তিনি নিজে ঘটনাটি দেখেননি। তবে হিমাগারে ব্যাপক ভাঙচুরের কথা শুনেছেন।
রাজশাহী বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, হিমাগারভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আজও এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।