নারী নির্যাতন
নারী নির্যাতন

অটোরিকশা থামিয়ে দুই বোনকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় স্বজনকে মারধর

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় অটোরিকশা থামিয়ে সড়কে এক কলেজছাত্রী (২২) ও তাঁর বড় বোনকে (২৪) যৌন নিপীড়ন করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে কলেজছাত্রীর ভগ্নিপতিকে (২৮) এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্মপাশা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ, ভুক্তভোগী দুই নারী ও মারধরে আহত ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা কলেজছাত্রী তাঁর বড় বোন ও ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার বিকেলে অটোরিকশায় পাশের মধ্যনগর উপজেলার শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় কিশোর ও তরুণ বয়সী তিনজন বখাটে মিলে কলেজছাত্রী ও তার বড় বোনকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। এতে কলেজছাত্রীর বড় বোনের জামাই প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের তর্কবিতর্ক হয়। পরে ওই তিনজন বখাটে আরও দুজন বখাটে যুবককে সঙ্গে নিয়ে ধর্মপাশা উপজেলার আলতাফপুর গ্রামের সামনের সড়কে মোটরসাইকেলযোগে এসে অবস্থান নেয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে কলেজছাত্রীরা রওনা হন। তাঁদের অটোরিকশাটি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ধর্মপাশার আলতাফপুর গ্রামের সামনের সড়কে এসে পৌঁছালে অটোরিকশাটির গতিরোধ করা হয়। সেখানে থাকা বখাটের দল কলেজছাত্রী ও তাঁর বড় বোনের হাত এবং পরিহিত কাপড়চোপড় ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। এ সময় কলেজছাত্রীর ভগ্নিপতি প্রতিবাদ করেন। তখন পাঁচজন বখাটেসহ তাদের স্বজনেরা ওই ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি কিল–ঘুষি, চড়–লাথি মেরে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। দুজন নারীর চিৎকার শুনে আশপাশে থাকা লোকজন এগিয়ে এলে বখাটের দলসহ তাদের স্বজনেরা সেখান থেকে সটকে পড়ে। পরে আহত ওই ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ওই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনায় কলেজছাত্রী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে ওই দিন রাত তিনটার দিকে উপজেলার আলতাফপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি মাহবুবকে (৪৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া উপজেলার বেরিকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আরেকজনকে (১৭) আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ধর্মপাশা থানার এসআই শরীফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মাহবুবকে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অপর আসামিকে (১৭) ওই দিনই সুনামগঞ্জ শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।