নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর মুয়াজ্জিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে এ অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ওই ব্যক্তির নাম আল আমিন চৌধুরী। তিনি সাপাহার উপজেলা সদরের তালপুকুর মাস্টারপাড়া জামে মসজিদে চার বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের চাপে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ হয়েছে বলে তিনি ফেসবুকে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।
ভুক্তভোগী আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং ছাত্রদলের রাজনীতি করার জন্য বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় মসজিদ কমিটি আমাকে বারবার রাজনীতি ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল। বিশেষ করে এলাকার জামায়াতের কিছু নেতা-কর্মী আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য মসজিদ কমিটির লোকদের চাপ দিচ্ছিল।’
আল আমিন আরও বলেন, ‘রাজনীতি করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা খোঁজা হচ্ছিল। এর সাথে যোগ হয় মসজিদের সামনে থেকে দোকান উচ্ছেদে আমার প্রতিবাদ করা। গতকাল রাতে মসজিদের সামনের একটি মুদিদোকান উচ্ছেদ করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মুদিদোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে সামান্য সময় দেওয়ার অনুরোধ করি। এতে মসজিদের কমিটির সভাপতি এলাহী বক্সসহ অন্যরা আমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হন। পরে তাঁরা আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেন। রাজনীতির কারণেই মূলত আমাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্স বলেন, ‘মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন হয়ে রাজনীতি করা কেউ পছন্দ করবেন না। নির্দিষ্ট দলের পক্ষে তাঁর বিশেষ পক্ষপাতিত্ব অনেকেই পছন্দ করতেন না। এ ছাড়া আমাদের মসজিদের সামনে একটি দোকান বসতে দেওয়া হয়েছিল। রকি নামের একটি ছেলে সেখানে মুদিদোকান করতেন। মসজিদের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দোকানদার বিষয়টি জানানো হয়। জানানোর পরও দোকান সরিয়ে না নেওয়ায় গতকাল দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়। এলাকার লোকজন সবাই মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে আল আমিন ওই দোকানদারের পক্ষে অবস্থান নেন। যে কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দিতে হয়েছে।’
এদিকে এ ঘটনায় জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাপাহার উপজেলা সদরের একটি মসজিদ থেকে আল আমিন নামের একজনকে মুয়াজ্জিনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল আমিন তাঁর ফেসবুক আইডিতে যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মী বা সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।