
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার প্রথম দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর বিভিন্ন পথসভায় নারীরা বিএনপি প্রার্থীকে গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। তবে মালা পরিয়ে নারীরা তাঁদের দাবিও জানিয়েছেন। তাঁরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চেয়েছেন এবং পাড়া–মহল্লার রাস্তাঘাট ঠিক করার ও শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের চাকরির দাবি জানিয়েছেন।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ। এ ছাড়া এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নাজমুল হক, জাতীয় পার্টির মো. ইকবাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবদুস সালাম রয়েছেন।
গতকাল সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের ২৭টি পথসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিটি পথসভায় নারীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁরা গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে প্রার্থীকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। প্রতিটি পথসভায় নারীদের দাবি প্রায় একই ছিল এবং একই ফুলের মালা দিয়ে তাঁরা প্রার্থীকে বরণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের বাঘা ও চারঘাট এলাকায় অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পুকুর খননের জন্য প্রাকৃতিকভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে অনেক একফসলি জমি জলাবদ্ধ হয়ে অনাবাদী হয়ে গেছে এবং দুই ফসলি জমি এক ফসলি ও তিন ফসলি জমি দুই ফসলিতে পরিণত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে তিন ফসলি জমির অনেক আমগাছ মারা গেছে, যা অনেক গৃহস্থকে দিনমজুরে পরিণত করেছে।
অতীতে চারঘাট উপজেলার কাঁকড়ামারি এলাকা থেকে একটি খাল দিয়ে পদ্মা নদীর পানি বাঘা উপজেলার তেপুকুরিয়া, নওটিকা, ধন্দহ ও নাটোরের লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়া হয়ে চলন বিলে গিয়ে পড়ত। একইভাবে বাঘা উপজেলার চান্ডিপুর ক্ষুদি ছয়ঘটি এলাকার বিলে বর্ষার পানি লালপুরের আটটিকার বিল হয়ে বিভিন্ন খালের মাধ্যমে চলনবিলে পড়ত। অবৈধ পুকুর খনন ও খাল দখলের কারণে এই প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ জন্য এলাকার মানুষের প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি।
বাজুবাঘা ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া গ্রামে উপস্থিত নারীদের মধ্যে থেকে রুমপা বেগম বলেন, ‘আমার আর কোনো দাবি নেই। একটাই দাবি—বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল চাই।’ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত সব নারী একই দাবির পুনরাবৃত্তি করেন। আবু সাইদ চাঁদ নারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনারা খালের কথা বলেছেন, আমি বিল পর্যন্ত গিয়েছি। ইনশা আল্লাহ, খালের ব্যবস্থা হবে। আমার প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমান খাল খনন করেছিলেন। তাঁর ছেলে তারেক রহমান খাল খননকে প্রাধান্য দেবেন। আমি যদি পাস করি এবং তারেক রহমান সরকার গঠন করেন, তবে ইনশা আল্লাহ খালের ব্যবস্থা হবে।’
প্রার্থীকে কাছে পেয়ে ইউনিয়নের ক্ষুদি ছয়ঘটি গ্রামের নারীরা একসঙ্গে তাঁদের সমস্যার কথা বলতে শুরু করেন। তাঁদের কথার কিছু বুঝতে না পারা গেলেও পরে তাঁদের পক্ষ থেকে ফুলঝুরি বেগম বলেন, ‘বর্ষায় রাস্তাঘাট ডুবে যায়, পানি বের হওয়ার রাস্তা থাকে না। রাস্তা করে দিতে হবে। অনেক বিধবা আছেন, যাঁদের স্বামী নেই, চলতে পারেন না, তাদের কার্ড করে দিতে হবে। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে বসে আছে, তাঁদের চাকরি দিতে হবে। বারখাদিয়ার মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে তিন ফসলি জমি এক ফসলি হয়ে গেছে। আমবাগান নষ্ট হয়ে গেছে।’ শিউলি বেগম নারীদের পক্ষ থেকে নানা সমস্যা তুলে ধরেন।
প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে তিনি পাস করলে এবং তারেক রহমান সরকার গঠন করলে তাঁদের সমস্যার সমাধান করবেন। আজ শুক্রবার সকাল থেকে চারঘাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী আবু সাইদ পথসভা করছেন। আগের দিনগুলোর মতো সব পথসভায় নারীরা উপস্থিত থেকে মালা দিয়ে তাঁদের স্থানীয় সমস্যার কথা বলছেন।