ভোটের দিন ছিলেন কারাগারে। অথচ ভোট দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগে রাজশাহীতে মামলা করেছিলেন বিএনপির স্থানীয় এক নেতা। রোববার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন সেই মামলার রায় দিয়েছেন। রায়ে মিথ্যা মামলা করায় বাদীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানার টাকা মামলায় কারাভোগ করা দুই আসামি পাবেন। সাত দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে বাদীকে এক মাস কারাদণ্ডেরও আদেশ দিয়েছেন আদালত। গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজশাহী মহানগরের দামকুড়া থানায় মামলাটি করেছিলেন বাদী সাজ্জাদ হোসেন।
দণ্ড পাওয়া সাজ্জাদ হোসেন (৪৬) রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। উপজেলার বেলুয়া খোলাবোনা গ্রামে তাঁর বাড়ি। মামলায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমানসহ দলটির ১৩ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালে ভোট দিতে তিনি কসবা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় আসামিরা তাঁকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেন। তিনি প্রবেশের চেষ্টা করলে ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান পিস্তল দেখিয়ে তাঁকে গুলি করার হুমকি দেন এবং অন্য আসামিরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে রজব নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামি বাবর আলী, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহাগ ও মো. রাজিব তাঁদের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তখন গুলি তার পাশ দিয়ে চলে যায়। আসামি বাদলসহ অন্যরা তাঁদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি, হাঁসুয়া ও পাসলি দিয়ে তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করেন। পরে তাঁর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে রক্ষা করেন।
তবে আদালতে প্রমাণিত হয়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন বাদী সাজ্জাদ হোসেন। এ জন্য মামলার বিবরণ সন্দেহাতীতভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিক প্রথম আলোকে বলেন, মামলার ঘটনার তারিখে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে ছিলেন। অথচ ওই তারিখে তাঁকে ভোটকেন্দ্রে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করেন। মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় দুজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। জরিমানার অর্থ তাঁরা ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। সাত দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করে ব্যাংক চালানের কপি আদালতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় বাদীকে এক মাস কারাভোগ করতে হবে।
জানতে চাইলে মামলার বাদী বিএনপি নেতা সাজ্জাদ আলী বলেন, ‘আমি তো আসলে রাজনৈতিক মামলায় জেলে ছিলাম। মামলা করার সময় বিষয়টা মনে ছিল না। আদালতে যখন প্রমাণিত হয়েছে, তখন মামলা মিথ্যাই ছিল।’