
‘ভালো করে বাজাও, আমি গান করব, আরতি দেব, নাচব।’ বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেই দর্শকসারি থেকে উঠে দুর্গাপ্রতিমার সামনে আরতি দিতে যান অর্চনা রানী। এর মধ্যে মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত লোকজন তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের নামাপাড়া দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। অর্চনা রানীর বাড়িও ওই গ্রামে।
ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। অর্চনা রানীর প্রতিবেশী মালা রানী বলেন, ‘অর্চনা রানী মন্দিরে বসে আরতি উপভোগ করছিলেন। একপর্যায়ে বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘ভালো করে বাজাও। আমি গান করব, আরতি দেব, নাচব।’ এরপর আরতি দিতে গিয়ে একপাক ঘুরতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অর্চনা।’
একই রকম বর্ণনা দেন আরেক প্রতিবেশী জগদীশ রায়। অর্চনা রানী প্রতিবছর দুর্গোৎসবে আরতি দিতেন বলে তিনি জানান।
অর্চনা রানীর স্বামী গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, তাঁর স্ত্রীর উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা ছিল। সারা দিন উপবাসও করেছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্চনা রানী ও গোপাল চন্দ্র সরকারের চার মেয়ে। গোপাল চন্দ্র স্থানীয় একটি বাজারের হোটেলে কাজ করেন। তাঁদের বড় তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে স্বপ্না রানী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
ওই মন্দির কমিটির সভাপতি নিত্যেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, দুর্গোৎসব চলাকালে আরতি দেওয়ার সময়ে অর্চনা রানী মন্দিরে মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় উৎসবের আনন্দ শোকে পরিণত হয়। রাতে মন্দিরে আর কোনো পূজা-অর্চনা হয়নি। আজ সোমবার দুপুরের আগে অর্চনা রানীর মরদেহ সমাধিস্থ করা হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার। তিনি বলেন, উৎসবের মধ্যে ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।