বিবাহ
বিবাহ

বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর ‘বদলে গেল’ কনে, অতঃপর...

হইহুল্লোড় করে বিয়ের পালা শেষ করে কনেকে নিয়ে বাড়িতে যায় বরপক্ষ। কিন্তু বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর কনের চেহারা দেখে বর অভিযোগ করেন, কনে বদলে দেওয়া হয়েছে। পরদিন কনেকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো বাবার বাড়িতে। এ ঘটনায় আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার পর বিষয়টি মীমাংসার শর্তে বরকে জামিন দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু দুই পক্ষ একাধিকবার বৈঠকে বসলেও সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় কনেপক্ষের মামলায় গতকাল সোমবার আদালতে হাজিরা দিতে আসেন বর। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ মঙ্গলবার ঘটনাটি জানাজানি হয়।

স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার গ্রামের এক মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন বর। কিন্তু বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর বর দেখতে পান, তাঁকে যে মেয়ে দেখানো হয়েছিল, এই মেয়ে সে নয়। ঘটনাটি পরিবারের লোকজনকে জানানোর পর উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে পরদিন কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে মেয়ের বাবা কনে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বরপক্ষের বিরুদ্ধে যৌতুকের টাকার জন্য এ ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৭ আগস্ট বর ও তাঁর ভগ্নিপতিকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন মেয়ের বাবা। অন্যদিকে প্রতারণার অভিযোগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর মেয়ের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন বর। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের সময় কনে বদলের বিষয়টি বোঝা যায়নি। বাসর রাতে মেয়ে মুখ ধোয়ার পর তিনি বিষয়টি টের পান। মেয়েপক্ষ প্রতারণা করে মেয়ে বদল করে দিয়েছেন।

মেয়ের বাবা প্রথম আলোকে বলেন, বিয়ের আগে পাত্রপক্ষ বাড়িতে এসে মেয়ে দেখে গিয়েছিল। বিয়ের আগে তাঁরা যৌতুকের কথা বলেননি। কিন্তু বিয়ের পরদিনই তাঁরা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তিনি জমি বিক্রি করে টাকা দিতেও রাজি হন। কিন্তু তাঁরা কোনোভাবেই সময় দিতে চাননি। এখন নাটক সাজিয়ে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

দুটি মামলাই আদালতে চলছিল। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার আদালতে হাজির হন বর। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বরের মামা বলেন, ছেলের ভগ্নিপতি মালয়েশিয়া থাকেন। সেখানে ফিরে যাওয়ার তাড়া থাকায় তড়িঘড়ি করে বিয়ের কাজ শেষ করেন। সেই সুযোগে ঘটক ও মেয়ের বাবা মিলে পাত্রী বদলে দেন। এটা কাম্য নয়।

তবে বিয়ের ঘটকের দাবি, তিনি এই মেয়েকেই দেখিয়েছিলেন। কোনো ধরনের প্রতারণা করেননি। ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন বলেন, মীমাংসার শর্তে বর জামিনে ছিলেন। কিন্তু বিষয়টির মীমাংসা হয়নি। এখন আদালতেই বিচার চলবে।