নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে
নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে

দাউদকান্দিতে খাদে পড়ে নিহত সবাই ধানকাটা শ্রমিক, খরচ কমাতে যাচ্ছিলেন ট্রাকে করে

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে হতাহত শ্রমিকেরা খরচ কমাতে ট্রাকে করে কাজের সন্ধানে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। আজ মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন হতাহত ব্যক্তির স্বজন পুলিশের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিক নিহত হন ও আহত হন আরও ছয়জন। তাঁরা সবাই বোরো ধান কাটার শ্রমিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিপুর গ্রামের আবজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০), আবু সালেক (৪২); বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের সুমন মিয়া (২১), বিষু মিয়া (৩৪), আবু হোসেন (২৯) এবং আবদুর রশিদ (৫৮)। তাঁদের সবার বাড়ি দিনাজপুরে। তাঁদের লাশ উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।

আহতরা হলেন আমির আলী (৪৫), তরিকুল ইসলাম (৫০), জালাল হোসেন (৩৭), মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮) ও জাহাঙ্গীর আলম (৪০)। তাঁদের প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া আরেক আহত ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নয়ন দে প্রথম আলোকে জানান, আহত পাঁচজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে একটি চালবোঝাই ট্রাকে করে ১৩ জন শ্রমিক নোয়াখালীর দিকে যাচ্ছিলেন। ভাড়া কমানোর উদ্দেশে তাঁরা ট্রাকের ওপর বসে যাত্রা করেন। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন।

নিহত সোহরাব হোসেনের ভগ্নিপতি জসিম উদ্দিন সকালে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় এসে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের সবাই ধান কাটার শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে সোহরাব তাঁর (জসিম উদ্দিন) স্ত্রীর বড় ভাই। কাজের উদ্দেশ্যে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন তাঁরা। সোহরাব পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।

এদিকে আজ সকালে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।