মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল মোল্লাকান্দিতে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে মুন্সিকান্দি গ্রামে
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল মোল্লাকান্দিতে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর  সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে মুন্সিকান্দি গ্রামে

বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের গণসংযোগে হামলা, ককটেল ও গুলিতে আহত ৪

মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনের সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক উজির আলী ও আওলাদ মোল্লার লোকজন এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. লিজন, নুরুদ্দিন, ফয়সাল হোসেন ও মো. নিরব। তাঁদের মধ্যে লিজন ও নুরুদ্দিনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ–বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। আর ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সদ্য বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান (মল্লিক) ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ রায়হান। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আহমেদ ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আওলাদ হোসেন মোল্লা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকেরা মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় ভোটের প্রচার শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা মুন্সিকান্দি গ্রামে যান। সে সময় উজির আলী ও আওলাদ মোল্লার লোকজনের সঙ্গে ফুটবল সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উজির আহমেদের লোকজনেরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রামদা, বন্দুক নিয়ে ধাওয়া দেন। এতে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় ককটেল ও ছররা গুলির আঘাতে অন্তত চারজন আহত হন।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আতাউল করিম প্রথম আলোকে জানান, বেলা পৌনে তিনটার দিকে আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের শরীরে, পায়ে, চোখে ছররা গুলি অথবা ককটেলের স্প্লিন্টার–জাতীয় কিছুর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ফুটবল প্রতীকের সমর্থক রিয়াদ মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ফুটবল প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেছিলাম। বিনা উসকানিতে উজিরের বাড়িতে ধানের শীষের নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আহমেদকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াহিদ-আতিক মল্লিকদের সঙ্গে উজির-আওলাদদের বিরোধ চলছে। তাঁদের বিরোধে গত বছর নভেম্বরের দিকে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ দুটি পক্ষ ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকে ভাগ হয়েছে। নির্বাচনকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ শুরু করতে চাইছে। এতে করে আবারও এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।’