
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রুমিন ফারহানা এবং এস এন তরুণ দের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিযোগে সরাইল উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতিসহ ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের নয়জন ও শ্রমিক দলের দুজন।
গতকাল রোববার যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
যুবদলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গতকাল দুপুরে এবং শ্রমিক দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আজ সোমবার বিকেলে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। একই কারণে গতকাল সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতিসহ ছয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বুধবার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন শাখা বিএনপির ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থগিত করা হয় এবং গত মঙ্গলবার উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ছয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে উপজেলা বিএনপি।
যুবদলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় সরাইল উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নূর আলম, সাবেক সহসভাপতি আবদুল রাকিব, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারেক, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেন, সাবেক সদস্য আহাদ মিয়া, সরাইল সদর ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান খান, কালীকচ্ছ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেন ও অরুয়াইল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল মিয়াকে বহিষ্কার করা হলো।
শ্রমিক দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ মিয়াকে শ্রমিক দলের পদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের শুরু থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে সরাইল উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নূর আলম ও কালীকচ্ছ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী এস এন তরুণ দে এবং অন্য নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত রয়েছেন।
বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর আজ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী কাজ করছিলেন না, এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি (বহিষ্কৃত) আইয়ুব হোসেন সরদার বলেন, বিএনপি যতই দল থেকে নেতা–কর্মীদের বহিষ্কার করছে, ততই রুমিন ফারহানার সমর্থক বাড়ছে।
সরাইল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলা যুবদল নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যুবদলের নেতাদের বহিষ্কার করার আগে বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। বহিষ্কৃত নেতারা অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কোনো প্রমাণ নেই।’