মিরসরাইয়ের একটি পোলট্রি খামার
মিরসরাইয়ের একটি পোলট্রি খামার

দুই মাসের ব্যবধানে তিন গুণ মুরগির বাচ্চার দাম, খামারিরা বিপাকে

গত বছরের ডিসেম্বরে এক দিন বয়সী ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম ছিল সর্বোচ্চ ২৫ টাকা। দুই মাসের ব্যবধানে এখন বাজারে ওই বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। হঠাৎ করে মুরগির বাচ্চার দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খামারিরা।

মিরসরাইয়ের খামারিদের অভিযোগ, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অযৌক্তিকভাবে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ানো হয়েছে। এমনিতেই খাদ্যের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে খামারিরা দিশাহারা। এখন নতুন করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ার কারণে খামারিরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় প্রায় দুই হাজারের মতো পোলট্রি খামার রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ৪০০টি, বাকিগুলো অনিবন্ধিত। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও ফেনীর বিভিন্ন স্থানে মিরসরাই থেকে ব্রয়লার মুরগি সরবরাহ করা হয়।

খামারিরা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানভেদে ব্রয়লার মুরগির প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। এ বছরের জানুয়ারিতে দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে উঠানামা করেছে। দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগির এক দিনের বাচ্চার দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। তবে কয়েক দিন ধরে এসব বাচ্চার দাম বেড়ে চলছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত চার দফা দাম বেড়েছে। গত রোববার একটি ছাড়া বাকি সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। হঠাৎ এভাবে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের মলিয়াইশ গ্রামের ব্রয়লার মুরগির খামার রয়েছে আলতাফ হোসেনের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দুটি খামারে ৩ হাজার ব্রয়লার মুরগি পালন করি। এমনিতেই বাজারে মুরগির মাংসের দামের কোন স্থিতিশীলতা নেই। তার ওপর খাদ্যের উচ্চমূল্য, খামার ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতনসহ সব খরচ মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এর মধ্যেই মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ল।’ তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় মুরগির বাচ্চার দাম বড়জোর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা হলেও ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছরই এই সময় মুরগির বাচ্চার অযৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার একটি কোম্পানি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দামে। এই দামে বাচ্চা কিনে খামার করার সাহস করতে পারছি না। তাই বাচ্চা তোলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও এখন খামার খালি পড়ে আছে।’

জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা পোলট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া অন্য সব কোম্পানি এখন ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে এক দিনের ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা বিক্রি করছে। অথচ সরকার সর্বোচ্চ ৬৯ টাকা বাচ্চার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এই দামে বাচ্চা কিনে খামার করলে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।’

জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাকিরুল ফরিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার অযৌক্তিক দামের অভিযোগ আমিও শুনেছি। তবে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দামের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ হয়। এতে আমাদের করার তেমন কিছু থাকে না। তবু কোম্পানিগুলোর এমন অযৌক্তিক দামে মুরগির বাচ্চা বিক্রির বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাব।’

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘উৎপাদন খরচ এবং মুনাফাসহ একটি বয়লার মুরগির বাচ্চা কোনোভাবেই ৩৫ থেকে ৪০ টাকার বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। এমন অযৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে প্রান্তিক খামারিদের বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। আমরা বিষয়গুলো সরকারের নজরে এনেও তেমন প্রতিকার পাচ্ছি না।’ বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।