নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয় ঘেরাও এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকেরা।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কয়েক শ শ্রমিক মাধবদী বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও এবং মহাসড়ক অবরোধে অংশ নেন। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার বাসের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাউল হাসান এবং মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন। তাঁরা শ্রমিক ও পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে মহাসড়ক ছাড়েন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মাধবদীর টেক্সটাইল কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা বিদ্যুৎ পান ৮-৯ ঘণ্টা। এতে শ্রমিকদের আয়ও অনেক কমে গেছে। লোডশেডিং না কমলে কারখানার উৎপাদন এবং তাঁদের আয় বাড়বে না। সে কারণে এ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি তাঁদের।
আমান উল্লাহ নামের একজন শ্রমিক বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে কাপড় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেতন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম পাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে পথে বসে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। লোডশেডিং যদি দিতেই হয়, তাহলে কখন ও কতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকবে না—সেটি তাঁদের জানাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আবার লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মহসিন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘লোডশেডিং এখন জাতীয় সমস্যা। ইচ্ছাকৃতভাবে তো আর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছি না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাধবদী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করব।’