
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজনসহ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচ আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার সায়েদাবাদ বাজারের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত একই পরিবারের তিনজন হলেন রৌমারীর চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা এলাকার প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (২৬), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)। এ ঘটনায় যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তাঁর মেয়ে বৃষ্টি (২৫)। তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এখনো নিহত অটোরিকশাচালকের নাম–পরিচয় জানা যায়নি।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী বলেন, ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। আহত দুজনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাঁদের মৃত্যু হয়।
ওসি কাউসার আলী আরও জানান, নিহত ব্যক্তিরা সবাই রৌমারীতে ফিরছিলেন। পথে সায়েদাবাদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকটি অটোরিকশার ওপর উঠে যায়।
রৌমারী ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার নাহিদ হাসান শুভ প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়।
যাদুরচর ইউনিয়নের সদস্য জিয়ার আলী বলেন, জামালপুর জেলার কাউনিয়ারচর থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা কর্তিমারীর দিকে যাচ্ছিল। পথে রৌমারী উপজেলার সায়দাবাদ বাজারের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে চালকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও দুজন।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক মোহাম্মদ নবীউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।