নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ‘নির্বাচনের বিরোধের’ জের ধরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এবার থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার শিকার (৩২) ওই নারীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারক এ নির্দেশ দেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশনাসহ বাদীর মামলার আবেদনটি থানায় পৌঁছেছে বলেন জানান হাতিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বাদীর মামলার আবেদনটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই নারী মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে ছয়জনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন আবদুর রহমান (৩২), মো. মতিন (৩৫), হেলাল উদ্দিন (৪০), মো. রুবেল (৩০), এমরান হোসেন (৩৫) ও বেলাল মাঝি (৪৮)।
মামলার আবেদনে ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি নির্বাচনে এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালান। ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে তিনি ঘরের ভেতর বসে স্বামীর সঙ্গে মুড়িমাখা খাচ্ছিলেন। এমন সময় বাইরে থেকে কে বা কারা তাঁর ঘরের দরজায় লাথি মারেন। তিনি শব্দ শুনে দরজা খুলতেই একই এলাকার বাসিন্দা রহমান, এমরান ও রুবেল তাঁর ঘরের ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তিনজনের একজন তাঁর স্বামীকে একটি কক্ষের ভেতর আটকে রাখেন। রহমান তাঁকে ধর্ষণ করেন। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই তিন ব্যক্তি ছাড়া আরও কয়েকজন এসে অতর্কিতে তাঁর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে হামলা-ভাঙচুর চালান। এ সময় তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে বেদম মারধর করা হয়। ধর্ষণের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাঁকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন বলে উল্লেখ করেন নারী।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই নারী এখনো হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর মেডিকেল রিপোর্ট আগামী সপ্তাহ নাগাদ পাওয়া যেতে পারে। সেটি পাওয়ার পর তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।