কাছুম আলী
কাছুম আলী

নিকলীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত, পুলিশ বলছে শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ঘোড়াউত্রা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন দুজন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার ছাতিরচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কাছুম আলী (৬৫) ছাতিরচর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল গভীর রাতে ঘোড়াউত্রা নদীতে খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন ও নৌকায় বালু তোলার চেষ্টা করেন কয়েকজন। অভিযোগ আছে, বেশ কিছুদিন ধরে ছাতিরচর দক্ষিণপাড়া গ্রামের জুম্মন মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। কাছুম আলীসহ কয়েকজন শুরু থেকেই বালু তুলতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এর জের ধরে গতকাল রাতে দু্ই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কাছুম আলীসহ তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের ওপর প্রতিপক্ষের ১০–১২ জনের একটি দল দেশি ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই কাছুম আলীর মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা রমিজ উদ্দিনসহ দুজন আহত হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, কাছুম আলীর শরীরে বাহ্যিক তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। মৃত্যুর কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তবে আহত দুজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে নিকলীর ছাতিরচরের ঘোড়াউত্রা নদী, সদরের বয়ালি নদ ও সিংহপুরের ধনু নদে থেকে অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বারবার প্রশাসনকে জানালেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে জানতে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ কারণে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জুম্মন মিয়ার মুঠোফোনেও একাধিকবার ফোন করে বন্ধ পাওয়া গেছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেন বলে জানান নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে নিকলীর সিংহপুর ও সদরে দুটি অভিযানে জেল–জরিমানা করা হয়েছে। তবে ছাতিরচরের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।’