সিলেটে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার সকালে নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস ভবনের মিলনায়তনে
সিলেটে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার সকালে নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস ভবনের মিলনায়তনে

প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে নিউক্লিয়ার বোমার প্রয়োজন হয় না। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করলেই একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব। তাই শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে সরকার নানা সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

আজ রোববার সকালে সিলেটের মেন্দিবাগ এলাকার জালালাবাদ গ্যাস ভবন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, সিলেট অঞ্চলে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘২০০১ সালে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছিল। এবারও সেই পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো—দুই ক্ষেত্রেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেছেন, ‘গত এসএসসি পরীক্ষার সময় একটি বহুল প্রচলিত গণমাধ্যম প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছিল। বিষয়টি জানতে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দুই থেকে তিনবার যোগাযোগ করে প্রমাণ চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এরপর একজন বিশাল ডাকসু নেতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করেন। অথচ বাস্তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস না হলেও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। কেউ ভাইরাল হওয়ার জন্য এমন অপপ্রচার চালাবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, তা হতে পারে না।’ তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি করে সংবাদ বা পোস্ট দিলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সত্যতা না থাকলে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার জন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নকল প্রতিরোধে ১৯৮০ সালের যে আইনটি, এটি আবার নতুনভাবে আমরা করছি। নতুন আইনে কেন্দ্রের ভেতরে নকল বা অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্রের সচিবের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা–সংক্রান্ত অপরাধে শাস্তির বিধান আরও কঠোর করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। পরীক্ষা এত শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে যে দেশের মানুষও সেটি টের পায়নি।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের সুফল পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ চালু করা হবে। শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া হবে এবং শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রমও প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। শিক্ষক–সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষক নেই। কোথাও কোথাও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। এই সংকট চার মাসে তৈরি হয়নি; বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। সরকার ধাপে ধাপে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, দীর্ঘদিন আটকে থাকা পদোন্নতি, শিক্ষক নিয়োগ ও মামলার জট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই থেকে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনশক্তি। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। সে জন্য টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভেট) সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পর্যায়ক্রমে টিভেট শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বক্তব্য দেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াছমীন। সভায় শিক্ষকেরা সদ্য সরকারীকরণ করা কলেজের শিক্ষকদের পদোন্নতি, গ্রেড অবনমন, শিক্ষক–সংকট, এমপিও, আত্তীকরণসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।