
সিলেটের জকিগঞ্জে রাস্তার ইট লুটপাটের অভিযোগে যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে আজ বৃহস্পতিবার টাস্কফোর্সের অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা যুব জামায়াতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী রয়েছেন। অন্যদের নাম জানা যায়নি। অভিযানে রাস্তা থেকে লুট হওয়া ইট উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এ সম্পর্কে ইউএনও মাসুদুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, রাস্তার ইটগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখতে বলা হয়েছিল। কিছু ইট এখনো আছে; কিন্তু অধিকাংশ ইট লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। লুট হওয়া ইটগুলো অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।
ইট লুটের ঘটনায় মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মাহফুজুল ইসলাম ইট লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফেসবুকে সোচ্চার ছিলেন। বৃহস্পতিবারও তিনি ফেসবুকে লেখেন ‘লড়াই চলবে। কোন আপোষ নয়! সত্য সুন্দর এবার প্রমানিত হবেই।’
এ সম্পর্কে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাহফুজুলের আটকের বিষয়টি ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। মূলত মাহফুজ ইট লুট ঠেকাতে সক্রিয় ছিলেন। ইটগুলো যাতে লুটপাট না হয় এবং ইটগুলো দিয়ে অন্য রাস্তায় কাজে লাগানোর জন্য নিজের জিম্মায় রেখেছিলেন। তবে মাহফুজের এ কাজে যাওয়া ঠিক হয়নি। আবেগের বসে ভালো উদ্যোগ মনে করে কাজটি করতে গিয়েছিল। এ কাজে চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বারকে নিয়ে করলে ভুল হতো না।’
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন ২০২১ সালের দিকে কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক হেরিংবোন বন্ড–পদ্ধতিতে প্রায় ১০ লাখ ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন সুরমা নদীর বাঁধের মেরামতকাজের জন্য ওই রাস্তায় মাটি ভরাট করা হচ্ছে। যে কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি ভরাটের আগে রাস্তার ইট তুলে মাদ্রাসার মাঠে রাখার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী কিছু ইট রাস্তা থেকে তুলে মাঠে রাখা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে অধিকাংশ ইট রাস্তা থেকে লুটের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি ইউএনওর কাছে ইট চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি সরকারি প্রকল্পের রাস্তা থেকে প্রায় ১৫ লাখ ইট রাতের অন্ধকারে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে জকিগঞ্জের ইউএনও, বিজিবি, পুলিশ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়। মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র এলাকার বিভিন্ন বাড়ির ভেতরে এবং রাস্তার পাশ থেকে কয়েক লাখ ইট উদ্ধার করা হয়। এ সময় রাস্তা থেকে লুট হওয়া ইট চুরির ঘটনার সম্পৃক্ততার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানান, রাস্তা থেকে ইট লুটের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।