আসামি আকলিমা আক্তার
আসামি আকলিমা আক্তার

ময়মনসিংহে দুই বছরের শিশুকে বিষ পান করিয়ে হত্যা, আদালতে সৎমায়ের স্বীকারোক্তি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় দুই বছরের শিশু ওয়াসকুরুনি ইসলামকে বিষ পান করিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সৎমা আকলিমা আক্তার। সতিনের ছেলে হওয়ায় ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করতে তিনি শিশুটিকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাহমিনা আক্তারের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আকলিমা। বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান ও গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।

মোস্তাছিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শিশু ওয়াসকুরুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করে সৎমা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার গৌরীপুর উপজেলার বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামের বাড়িতে শিশু ওয়াসকুরুনিকে বিষ পান করানো হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা শেফালী বেগম লিখিত অভিযোগ করেন। পরে সেটি মামলা হিসেবে নিয়ে শিশুটির বাবা আবদুল কাদির ও সৎমা আকলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শিশুটির মা শেফালী বেগম অভিযোগ করেন, তাঁকে না জানিয়ে সৎমাকে আসল মা সাজিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ এনে গোপনে দাফনের চেষ্টাও করেছিলেন।

সৎমায়ের জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সতিনের ছেলে হওয়ায় শিশুটিকে নিজের পথের কাঁটা মনে করতেন আকলিমা। নিজের ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করতে তিনি এ কাজ করেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে শিশুটির বাবাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, যা শুনানির অপেক্ষায় আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে গৌরীপুরের বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামের আবদুল কাদিরের সঙ্গে একই উপজেলার বড় কালীহর গ্রামের শেফালী বেগমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান জয়নাল আবেদীন (৮) ও ওয়াসকুরুনি (২)। গত বছরের নভেম্বর মাসে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বিচ্ছেদের এক সপ্তাহ পর আবদুল কাদির আকলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। আগের সংসারের দুই সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

শিশুটির মা শেফালী বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর সন্তানকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করেছেন কাদির ও তাঁর বর্তমান স্ত্রী। তাঁকে না জানিয়ে সৎমাকে আসল মা সাজিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ এনে গোপনে দাফনের চেষ্টাও করেছিলেন। পরে লোকজন তাঁকে বিষয়টি জানায়। তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।