বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালকে নিয়ে চাকসুর ফটোকার্ড
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালকে নিয়ে চাকসুর ফটোকার্ড

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালকে নিয়ে চাকসুর ফেসবুক পোস্টে ভুলের ছড়াছড়ি

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামালের শাহাদাতবার্ষিকী ছিল গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। পোস্টটিতে ফটোকার্ড ও ক্যাপশনে একাধিক ভুল ছিল। ফটোকার্ডে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামটিও ছিল ভুল। লেখা হয় মুস্তাফা কামাল। ছবির নিচে ক্যাপশনে লেখা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের নাম। এ ছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ বানানেও ছিল ভুল। আর ক্যাপশনের সঙ্গে যে ছবি দেওয়া হয়েছে, এটিও ছিল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের।

শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের অফিশায়াল ফেসবুক পেজে এ পোস্ট দেওয়া হয়। যদিও সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে পোস্টটি করা হয়। ফটোকার্ডের নিচে ক্যাপশনে লেখা হয় ১৮ এপ্রিল বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পোস্টটি সম্পাদনা করে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নাম বসানো হয়। তবে সংশোধিত পোস্টেও ভুল দেখা যায়। পোস্টে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের শাহাদাতবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করা হলেও এতে ব্যবহার করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ছবি। শুধু তা–ই নয়, পোস্টের ফটোকার্ডে বীরশ্রেষ্ঠ বানানটিও ভুলভাবে ‘বীরশ্রেষ্ট’ লেখা হয়।

চাকসুর এমন কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। পোস্টের সমালোচনা করে ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি ও আরবি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাকিব মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চাকসু নেতৃবৃন্দের অবস্থান বরাবরই ধোঁয়াটে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের শাহাদাতবার্ষিকীতে মতিউর রহমানের নাম ও নূর মোহাম্মদ শেখের ছবি যুক্ত করা সাধারণ কোনো ভুল নয়। মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ না করে দায়সারা পালন করতে গেলেই এমন ভুল হয়।’

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালকে নিয়ে পোস্টে ভুলের ছড়াছড়ি

একই কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব মো. রোমান রহমান। তিনি বলেন, ‘চাকসুর বর্তমান নেতৃত্বে ইসলামী ছাত্রশিবির-সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তাঁদের অজ্ঞতা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁরা এটিকে এড়িয়ে যেতে পারেননি। তবে যথাযথভাবে চেতনা ধারণ না করার কারণেই বিভ্রান্তিকর ভুল হচ্ছে।’

জানতে চাইলে চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মো. মোনায়েম শরীফ বলেন, গতকাল রাতে দেওয়া পোস্টটিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। সাধারণত পোস্টগুলো যাচাই করে প্রকাশ করা হয়, তবে গতকাল তা করা হয়নি। মূলত দপ্তর সম্পাদক পোস্টটি করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর পোস্টটি প্রথমে সংশোধন করা হয়। পরে বেশি ভুল থাকায় সেটি সরিয়ে ফেলা হয়।

চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তাড়াহুড়ার কারণে ১৮ এপ্রিলের মধ্যেই পোস্টটি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এতে অনিচ্ছাকৃতভাবে নামের ভুল, বানানের ভুল এবং ছবির অসংগতি হয়েছে। ছবিটি আগে থেকেই ছিল, কিন্তু যাচাই করা হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. ইব্রাহীম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাইদ বিন হাবিবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা রিসিভ করেননি।

চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমানও বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার কথা থাকলেও অনেক সদস্য তা বাস্তবে ধারণ করেন কি না, সে বিষয়ে আমার সংশয় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিরও অভাব রয়েছে। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরে এনে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবে ধারণ এবং এ বিষয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।’