সুনামগঞ্জে গণভোট সম্পর্কে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ঐতিহ্য যাদুঘর প্রাঙ্গণে
সুনামগঞ্জে গণভোট সম্পর্কে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ঐতিহ্য যাদুঘর প্রাঙ্গণে

এবার ছাগল চরবে না, ভোটকেন্দ্র মুখরিত থাকবে: ধর্ম উপদেষ্টা

দেশে গত তিনটি নির্বাচন প্রহসনমূলক ছিল মন্তব্য করে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ‘এবার প্রথম, বহুদিন পরে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। অতীতে আমরা দেখেছি ভোটের দিন স্কুলের মাঠে ছাগল চরেছে। এবার আর ছাগল চরবে না, এবার জনগণের অংশগ্রহণে ভোটকেন্দ্র মুখরিত থাকবে।’

সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ধর্ম উপদেষ্টা। পৌর শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এই সভা হয়।

সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

বক্তব্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের জন্যই এই গণভোট। দেশকে স্বৈরতান্ত্রিক ধারা থেকে মুক্ত করতে, সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরতে না পারে, কেউ যাতে মউত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী না থাকতে পারেন, এ জন্য হ্যাঁ–তে ভোট দিতে হবে।

দেশ স্বাধীনের পর কয়েকবার গণভোট হয়েছে উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা জানান, জুলাই সনদে এবারের গণভোটের বিষয়গুলো পরিষ্কার বলা আছে। এবারের গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে, কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে কারও মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করতে পারবেন না। বিরোধী দল থেকে সংসদে ডেপুটি স্পিকার, সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি মনোনীত হবেন। গণভোটের বিষয়গুলোতে সব দল একমত হয়েছে। তাই এর পক্ষে যার যার অবস্থান থেকে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান খালিদ হোসেন।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের ভোটে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে জানিয়ে খালিদ হোসেন বলেন, ‘একটিতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এখানে আমাদের কোনো কথা নেই। সবাই নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। অন্যটি থাকবে গণভোটের। এটি হচ্ছে সবার। এটি প্রধান উপদেষ্টা বা আমার সুবিধার জন্য নয়। দেশের ভবিষ্যতের জন্য। কেউ চাইলে না–ভোট দিতে পারবে, এতে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা হ্যাঁ–ভোটের পক্ষে বলব।’

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে জানিয়ে খালিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু কাজ করেছি, জানালা খুলে দিয়েছি। নতুন সরকার সেগুলো এগিয়ে নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যৎ ভালো হবে, আগামী পাঁচ বছর আমাদের সোনালি দিন হবে। আবার আরও খারাপও হতে পারে, তাই প্রস্তুতি রাখতে হবে।’

নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা জানান, কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, আর এর প্রমাণ থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রে পুলিশের বুকে সিসিটিভি ক্যামেরা অন থাকবে। কেউ অপরাধ করলে সেটি ধরা পড়বে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শুকুর মিয়া, সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফিজ মাওলানা মফিজুর রহমান, সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস, সমাজকর্মী সুবিমল চক্রবর্তী।

মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শামছ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাহীনুর পাশা চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।