
বাসের ধাক্কায় নিহত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২ শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আহত আরেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে দেওয়া হয়েছে দুই লাখ টাকা।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার দুপুরে ক্ষতিপূরণের এসব টাকা হস্তান্তর করা হয়। জেলা সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
ক্ষতিপূরণের টাকা হস্তান্তরের সময় চুয়েটের উপাচার্য মোহাম্মদ রফিকুল আলম, সহ-উপাচার্য জামাল উদ্দীন আহমেদ, ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রেজাউল করিম, রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানভীর-আল-নাসীফ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ এপ্রিল বেলা সাড়ে ৩টায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে বাসের ধাক্কায় নিহত হন চুয়েটের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা (২২) ও তৌফিক হোসাইন (২১)। আহত হন আরেক শিক্ষার্থী জাকারিয়া হিমু (২১)। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে চার দিন আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাহ আমানত পরিবহনের তিনটি বাসে আগুন দেন। তাঁরা নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ এবং আহত শিক্ষার্থীকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ এবং আহত শিক্ষার্থীকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
আহত শিক্ষার্থী জাকারিয়া হিমু প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমার চিকিৎসার সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করেছে। আমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। এই ক্ষতিপূরণের টাকা আমার পরবর্তী চিকিৎসায় সহায়তা করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ও আহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শান্ত ও তৌফিকের পরিবার থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থাপনা যেন শান্ত ও তৌফিকের নামে নামকরণ করা হয়।