
দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে দেখতে হবে। প্রেসিডেন্টের প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাঁদের নেতিবাচক অবস্থান নেই, তবে ব্যক্তি নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি দল জাতির আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
আজ রোববার সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নেয়নি, ফ্যাসিবাদের একটি বড় স্টেকহোল্ডার বিদায় নিয়েছে। ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া এখনো জাতির মাথার ওপর রয়ে গেছে। গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও দেশ এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সমাজের সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণতা রয়ে গেছে। রাজনীতিবিদেরা কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখতে না পারায় মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি অশ্রদ্ধা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গণভোট ও সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, গণভোটে বিপুলসংখ্যক ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু সেই রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি দলের সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে নোটিশ দেওয়া হবে এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধী দলের দুটি প্ল্যাটফর্ম—একটি সংসদের ভেতরে, অন্যটি রাজপথে। সংসদের ভেতরে যেমন গঠনমূলক রাজনীতি হবে, তেমনি প্রয়োজনে রাজপথেও গঠনমূলক কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে রমজান মাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে মাঠের কর্মসূচি থেকে বিরত ছিলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের ভূমিকার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, মিডিয়া জাতির দর্পণ আর সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক। সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাংবাদিকতায় সমাজ ও বিবেকের প্রতিধ্বনি আগের মতো দেখা যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে গুলি, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা দুঃখজনক। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ ও আপত্তি জানিয়েছি। মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নে নীরব থাকব না।’
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অর্থ কোনো দলের নয়। সরকার কেবল তার ব্যবস্থাপক। নির্বাচিত সরকারের সময় মানুষ স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারেনি, বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে। এ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধপরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ জ্বালানি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার উদ্যোগ নিলে জাতীয় স্বার্থে তা বিবেচনা করবে বিরোধী দল।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সর্বস্তরে গণতন্ত্রের চর্চা ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব তৈরির জন্য দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া উচিত। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের কাজ পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট উন্নয়নবঞ্চিত উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, সিলেট ন্যায্য পাওনা থেকে যাতে বঞ্চিত না হয়, সে দাবিতে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন। তবে সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের হাতে।
মতবিনিময় সভার শুরুতে শফিকুর রহমান দেশবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশি ও সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।