
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইমতিয়াজ আহমেদের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তাঁর জ্ঞান এখনো পুরোপুরি ফেরেনি। সংঘর্ষের ঘটনার ছয় দিন পর আজ শনিবার বেলা একটার দিকে তাঁর লাইফ সাপোর্ট পরীক্ষামূলকভাবে খোলা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাঁকে।
গত রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ। এর পর থেকেই নগরের পার্কভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। গত দুই দিন তাঁর কনশাস লেভেল ৬ থেকে ৭ এর আশপাশে ছিল।
ইমতিয়াজের বাড়ি কুমিল্লায়। তবে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বগুড়ায় থাকেন। ইমতিয়াজ আহত হওয়ার খবর পেয়ে গত সোমবার সকালে বগুড়া থেকে তাঁর বাবা আমির হোসেন ও মা শাহনাজ আমিন চট্টগ্রামে আসেন। ছেলে সুস্থ হয়ে ফিরবেন, সেই অপেক্ষায় আইসিইউর সামনে তাঁদের দিন কাটছে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ইমতিয়াজের ভাই আসাদুজ্জামান সজীব বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইমতিয়াজের জ্ঞান এখনো পুরোপুরি ফেরেনি। তবে সে কিছুটা রেসপন্স করছে। পরীক্ষামূলকভাবে লাইফ সাপোর্ট খোলা হয়েছে। সকালে দ্বিতীয়বারের মতো মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। আরেকটি সিটি স্ক্যান করে তার মাথায় রক্তক্ষরণ নেই বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার কনশাস লেভেল ৮-৯ এর মতো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ বেলা ১১টায় ইমতিয়াজের বিষয়ে দ্বিতীয়বার মেডিকেল বোর্ড বসে। বোর্ডে নিউরোসার্জন কামাল উদ্দিন, মো. ইসমাইল, মো. মনজুরুল ইসলাম এবং নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ হাসানুজ্জামান ছিলেন। বোর্ডের সিদ্ধান্তে পরীক্ষামূলকভাবে ইমতিয়াজের লাইফ সাপোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত হয়। আজ দুজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে হাসপাতালে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেডিকেল বোর্ড বসেছিল বলে জানান হাসপাতালের কর্মকর্তারা।
পার্কভিউ হাসপাতালের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ইমতিয়াজের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তিনি হাত-পা নাড়াচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারছেন। লাইফ সাপোর্ট খোলার পর তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
গত ৩০ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ১২টা থেকে পরদিন রোববার দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংঘর্ষে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন স্থানীয় বাসিন্দাও আহত হন।