
গলা কাটা অবস্থায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করতে চেয়েছিলেন তারই প্রতিবেশী বাবু শেখ। মৃত ভেবে শিশুটিকে তিনি ফেলে যান পাহাড়ের খাদে। গত রোববার গলা কাটা অবস্থায় দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া ওই শিশু গতকাল সোমবার দিবাগত রাত তিনটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এরপর এ ঘটনায় জড়িত বাবু শেখকে আজ মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হত্যা চেষ্টার বিবরণ দিয়েছেন।
আজ সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান বলেন, শিশুটির পরিবার ও বাবু শেখের পরিবার প্রতিবেশী। পাশাপাশি থাকার কারণে তাঁদের মধ্যে প্রায় বিরোধ লেগে থাকত। কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবু শেখ। এরপর গত রোববার শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শিশুটির জুতা, সালোয়ার ও চকলেট উদ্ধার করে। চন্দ্রনাথ মন্দির এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেছে।
নাজির আহমেদ খান বলেন, কন্যাশিশুটিকে প্রথমে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাশের পাহাড়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন প্রতিবেশী বাবু শেখ। শিশুটির চিৎকারে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হলে পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন। এরপর শিশুটিকে মৃত ভেবে পাহাড়ের খাদে ফেলে চলে যান বাবু শেখ।
গত রোববার সকালে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনার আরও অন্তত ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের ধার থেকে শিশুটিকে সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা উদ্ধার করেন। প্রথমে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা শুরু থেকে এটিকে ধর্ষণচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্ধারের দিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। শিশুটি মারা যাওয়ার পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ইকোপার্কের সেই গহিন পাহাড়ে ওঠার সব কটি পথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এরপর চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সড়কের একটি সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে আজ মঙ্গলবার সকালে বাবু শেখকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেওয়া হয়। ওসিসিতে সাধারণত ধর্ষণের সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। তবে শিশুটির শারীরিক দুর্বলতা থাকায় সে ধরনের আলামত সংগ্রহ করা যায়নি। তবে শিশুটির শরীর থেকে সম্ভাব্য সব ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত ছিল।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটিকে যখন আনা হয়, তখন তার শ্বাসনালি কাটা ছিল। শুরুতে অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। পরে তাকে নাক, কান ও গলা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ওসিসিতে নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। এ সময় তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।